শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:০৫

কানাডায় স্কুল খোলা, উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা

কানাডা প্রতিনিধি:

কানাডায় স্কুল খোলা, উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা

বৈশ্বিক মহামারী শুরুর প্রাক্কালে গত মার্চ মাস থেকে কানাডার স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় স্কুল চালু হয় সেপ্টেম্বর থেকে। শিক্ষারর্থীদের নিরাপদে রাখতে ইতোমধ্যেই নানা পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডা সরকার ও কানাডার প্রাদেশিক সরকারের কর্তৃপক্ষ। উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যেই অভিভাবকরাও তাদের আদরের প্রিয় সন্তানদের স্কুলে দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে কোভিডের কারণে টরন্টোতে প্রথম একটি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।স্কারবোরোর ম্যাসন জুনিয়র পাবলিক স্কুলে শিক্ষার্থীসহ চার জন কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেপ্টেম্বর ২৮ থেকে অক্টোবর ২ পর্যন্ত স্কুলটি বন্ধ থাকবে বলে টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড (টিডিএসবি) রোববার এক টুইটে ঘোষণা দিয়েছে। 

স্কারবোরোর ৭৮ ম্যাসন রোডের এই স্কুলটি টরন্টোর প্রথম স্কুল যেটি কোভিড এর কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। তবে কোভিড সংক্রমিত হওয়ার তালিকায় এটি হচ্ছে দ্বিতীয় স্কুল। এর আগে গ্লেন পার্ক স্কুলে কোভিড সংক্রমণের ঘটনা ঘটে।ওই স্কুলে দুইজন শিক্ষার্থী পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়। 

অন্যদিকে টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড (টিডিএসবি) তাদের আ্ওতাধীন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইন পার্সন এবং ভার্চুয়াল ক্লাশের মধ্যে পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে। প্রথম দফায় পরিবর্তনের আবেদন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে। বর্তমানে ইন পার্সন এবং অনলাইন লার্নিং মেথড- পদ্ধতিতে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং তাঁর স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ার ট্রুডো তাদের বাচ্চাদের স্কুলে দিয়েছেন। ট্রুডোর তিন সন্তান জেভিয়ার, এলা গ্রেস এবং হ্যাড্রিয়েন স্কুলে পড়াশোনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে কানাডার কনজারভেটিভ দলের নেতা এরিন ও’টুল এবং তাঁর স্ত্রী তাদের দুই বাচ্চাকে স্কুলে দিয়েছেন। ও'টুল কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, "আমাদের স্কুলগুলি এবং যে পরিকল্পনাগুলি করা হচ্ছে তার প্রতি আমার অনেক আস্থা রয়েছে।"

আলবার্টার ক্যালগেরিতে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালি ও উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মাহমুদ হাসান দিপু বললেন, করোনাকালের গত সাত মাসের গৃহবন্দী জীবনে শিশু, কিশোরদের একাডেমিক শিক্ষার চেয়েও মানসিক সমৃদ্ধি ও বিকাশে যে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আমি ভীষণ শংকিত। তাই সরকার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা সমুহের প্রতি আস্তা রেখেই প্রিয় সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬১ জন, মৃত্যবরণ করেছেন ৯ হাজার ২ শত ৯১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৭ জন।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য