শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৬

৪০ বছরেও ভাগ্য বদল হয়নি আইনউদ্দিনের

ভালুকা প্রতিনিধি

৪০ বছরেও ভাগ্য বদল হয়নি আইনউদ্দিনের

৪০ বছরেও ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি পত্রিকা হকার আইনউদ্দিনের। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বহু কষ্টে দুই সন্তানকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। জানা যায়, ১৯৮০ সালে কিশোর আইনউদ্দিন হাতে তুলে নেন খবরের কাগজ। ময়মনসিংহের ভালুকার বিভিন্ন স্থানে পত্রিকা বিক্রি করে দুই বেলা খাবার জোগাড় করতেন তিনি। শিল্প কারখানা স্থাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রসার, থানা উপজেলায় রূপান্তর হওয়ায় অফিস আদালত বেড়ে যায়। পাল্লা দিয়ে বাড়ে সংবাদপত্রের চাহিদা। বিক্রি বাড়ে আইনউদ্দিনের। তিনি বাইসাইকেলের ক্যারিয়ারে বক্স তৈরি করে তাতে সংবাদপত্র বহন করে পাঠককে পৌঁছে দিতে শুরু করেন। সংবাদপত্র হাতে কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যে উপনীত। বড় ছেলে সোহেল মাস্টার্স শেষ করে স্বল্প বেতনে চাকরি করছেন।

 ছোট ছেলে আনোয়ার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করছেন। একমাত্র মেয়ে আমেনার বিয়ে হয়েছে। শত দুঃখ কষ্টের মধ্যে স্ত্রী ফাতেমা সংসার সামাল দিয়ে তার পাশে থেকে দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাতে সক্ষম হয়েছেন। বদলেছে দিন কিন্তু বদলায়নি আইনউদ্দিনের ভাগ্যের চাকা। নিরক্ষর আইনউদ্দিন পত্রিকা দেখেই বুঝে যান কোনটার নাম কী। আইনউদ্দিন বলেন, অনেক হকার আসছেন গেছেন কিন্তু তিনি পত্রিকা বিতরণ ছেড়ে যাননি। দুই ছেলেকে শিক্ষিত করতে পেরে গর্ব বোধ করি। জানান, করোনার কারণে পত্রিকার কাটতি অনেক কমে যাওয়ায় আয় রোজগার কমে গেছে। তার ইচ্ছা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংবাদপত্র নিয়ে পাঠকের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।


আপনার মন্তব্য