শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

কৃষি ও মৎস্যে ২ কোটি টাকার ক্ষতি

পাথরঘাটা প্রতিনিধি

কৃষি ও মৎস্যে ২ কোটি টাকার ক্ষতি

টানা ভারী বর্ষণে বরগুনার পাথরঘাটার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অসংখ্য ছোট-বড় মৎস্য ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে। সদ্য রোপা আমনের বীজতলা ও ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য ও কৃষিতে প্রায় ২ কোটির বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ৪০ লাখ ৩০ হাজার টাকার। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু-নিচু সব তলিয়ে গেছে। মানুষের স¦াভাবিক চলাচলও বিঘিœত হচ্ছে। এ অবস্থা বেশি দিন চলতে থাকলে গো-খাদ্যের সংকট পড়বে। ছোট পাথরঘাটা এলাকার আবদুল জলিল মিয়া, কামাল হোসেনসহ অনেকে জানান, ভারী বর্ষণের কারণে পানি জমে ঘরে পানি ঢুকেছে। কৃষি খেতও তলিয়ে গেছে। জানা গেছে, এ উপজেলায় মৎস্য ঘের ৮ দশমিক ৯০ হেক্টর, পুকুর ও দিঘি ২৩ দশমিক ৭২ হেক্টর ডুবে গেছে। সাদা মাছ ৪৮ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন এবং পোনা মাছ ৪৮ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন ভেসে গেছে। মৎস্য খাতেই মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলায় ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলার মধ্যে ৮৭৬ হেক্টর বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। সবজির ১০ হেক্টর জমির মধ্যে ৭৪ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত। দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি পানি অপসারণ করা না গেলে অনেক ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অর্ধকোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, হঠাৎ ভারী বর্ষণের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মৎস্য ঘেরে ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে জেলায় তালিকা পাঠিয়েছি। পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, ভারী বর্ষণে জেলার নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

 রোপা আমন, আউশ বীজতলা তলিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য প্রাথমিকভাবে জরিপের তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত অর্ধকোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পানি যদি জমে থাকে তবে আমনের বীজতলার আরও ক্ষতি হতে পারে। পাথরঘাটা উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, অতি বর্ষণজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য পৌরসভা মেয়র ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পাথরঘাটা পৌরসভায় ১০ মেট্রিক টন ও সাতটি ইউনিয়নে ১৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।