Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:২৪

নারায়ণগঞ্জে দুই নৈশ প্রহরী খুন; মামলার বাদী পরিবর্তনের দাবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জে দুই নৈশ প্রহরী খুন; মামলার বাদী পরিবর্তনের দাবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় দুই নৈশ প্রহরীকে হত্যা করে তিন দোকানে ডাকাতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার। ভবিষ্যতে মামলার ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। আজ বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বন্দর প্রেসক্লাবে নিহত নৈশ প্রহরী রায়হানউদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। 

এসময় উপস্থিত নিহত রায়হানউদ্দিনের স্ত্রী আমেনা আক্তর, মেয়ে রহিমা আক্তার, ইয়াসমীন আক্তার, বিলকিছ, মরিয়ম, নাজমিন, সানজিদা, আলী আফসার, মো. ওসমান, রওশন আলী মৃধা, হাজী শাহজাদা মৃধা, উজ্জল, শাহীনূর প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হানউদ্দিনের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার বলেন, মামলায় তাদের বাদী না করায় নিহতের পরিবার মামলার ভবিষ্যত নিয়ে শংকায় রয়েছে। তারা তাদের পিতার হত্যার ন্যায় বিচার নিয়েও শংকায় রয়েছে। তারা আরো বলেন, বাজারের নিরাপত্তার জন্য ২ জন নৈশপ্রহরী খুন হওয়ায় তাদের পরিবারের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তাদের অভিযোগ, যে বাজারের জন্য ২জন লোকের জীবন গেল কিন্তু বাজার কমিটি তাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি বা নিচ্ছে না। বাজার কমিটির কাছে গেলে বাজার কমিটি তাদের অবহেলা করে। তাই তাদের দাবি খুনীদের ফাঁসি নিশ্চিত করার জন্য ও ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মামলায় যাতে তাদের বাদী করা হয় এ দাবি রাখেন প্রশাসনের প্রতি।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক দুইটার দিকে বন্দর উপজেলার দক্ষিণ লক্ষণখালা বাজারে একদল তরুণ ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতরা রায়হান উদ্দিন ও মোতালেব নামের দুই নৈশ প্রহরীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তিনটি ব্যাটারির দোকান থেকে ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিছমিল্লাহ ব্যাটারির মালিক আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে বন্দর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। পরে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ডাকাতদের পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর ৩০ জুলাই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ ডাকাত ও পরে আরো ১ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ও যন্ত্রপাতি জব্দসহ উদ্ধর করা হয়েছে লুন্ঠিত ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ব্যাটারী। ১ আগষ্ট গ্রেফতারকৃত ডাকাত ড্রাইভার রনি হোসেন, রানা ফকির, জাহিদুল শরীফ ওরফে তাহিদুল ওরফে তৌহিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। অপরদিকে ৬ আগষ্ট ডাকাত মোক্তার হোসেন, জসিম ওরফে মুন্না, শাওন রানা, মহিন সিকদার ও লুন্ঠিত সামগ্রী ক্রয়কারী আতিকুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। 

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য