Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ১৫:৪৩

উঠে আসছে বটতলা কেন্দ্রিক বাউল গানের আসর

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

উঠে আসছে বটতলা কেন্দ্রিক বাউল গানের আসর

দেশের বিভিন্ন স্থানে এক সময় বটতলায় বসতো বাউল গানের আসর। কালের আবর্তে আজ হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য সেই বাউল গান। সেই সঙ্গে কমে এসেছে বাউলের সংখ্যাও। এই সুস্থ ধারার তৃণমূলের বাউল গানকে ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করছে বটতলা কেন্দ্রিক বাউল গানের আসর।

এক সময় নেত্রকোনার কুদ্দুস বয়াতি, হেলিম বয়াতি, চাঁন মিয়া বয়াতিরা সড়কের পাশে বটতলা দেখে দেখে বাউল গানের আসর জমাতেন। নানা বয়সের দর্শক শ্রোতারও ভীড় করতেন। মনোযোগ দিয়ে পালা গান, ঘাটু গান, জারি গান শুনতেন। আজকাল আকাশ সংস্কৃতির ভীড়ে আজ তা হারিয়ে গেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে আবারো জাগিয়ে তুলতে শিল্পকলার সহযোগিতায় শুরু হয়েছে বটতলা কেন্দ্রীক বাউল গানের আসর। 

এরই অংশ হিসেবে নেত্রকোনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগেও নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বাউল গানের আসর। গতকাল শনিবার বিকালে নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের রায়দুম রুহী বটতলায় বসে বাউল গানের আসর।

দেশের প্রখ্যাত বাউল কুদ্দুস বয়াতির শিস্য মিলন বয়াতি ও তার দল এক মনোমুগ্ধকর বাউল গানের আসর জমায়। এসময় বাজারের পাশে বটতলায় গান শুনতে বিভিন্ন বয়সের শ্রোতারা ভীর জমান। বাদ যায়নি নারীরাও। নতুন প্রজন্মের অনেকেই দেখেনি এমন আসর। তারাও দেখে মুগ্ধ। 

বয়াতি দলের ঢোলে তাল তুলেন রোকন বয়াতি। মন্দিরার সুর ধরেন শহীদ এবং কামালের হারমোনিয়ামে নেচে গেয়ে মাতিয়ে তুলে সকল বয়সের নর নারীদের। মুগ্ধ হয়ে বাড়ি ফিরে শিশুরাও। স্থানীয়রা মনে করেন এ সকল হারিয়ে যাওয়া বাউল গানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এমন উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি যে সকল বাউলরা আছেন তারা ফিরে পাবেন তাদের পেশা। বয়াতি রোকন বলেন আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকুক। কিন্তু এসকল আদি যন্ত্রগুলো হারিয়ে গেলে আমরা না খেয়ে মওে যাবো। 

মিলন বয়াতি বলেন, আগের দিনে বৈশাখকে কেন্দ্র করে গানের বায়না পেতাম। এইবার শুনেছি সবখানেই চিল্লাপাল্লার গান হইছে। কিন্তু বাউলদের কোন গান হয় নাই। এতে করে সুস্থ মানসিকতা তৈরী হবে হবে না। আমার ওস্তাদ কুদ্দুস বয়াতি গাইতেন এই দিন দিন না, আরো দিন আছে, কিন্তু এসকল অর্থবহ গান এখন না শুনলে শিখবে কি বাচ্চারা। 


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য