Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৩১
আপডেট : ১৯ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৩৭

কাটা মাথা উদ্ধার বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

কাটা মাথা উদ্ধার বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

নেত্রকোনায় শিশুর কাটা মাথা বহনকারী যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া শিশুর কাটা মাথা উদ্ধারের বিষয়টি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করে এ আহ্বান জানান পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী। 

এসময় তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর সাথে মাথা কাটার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। বৃহস্পতিবার শহরের নিউটাউন এলাকায় অনন্তপুকুর পাড়ে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে কাটলি এলাকার রিকশা চালক রবিন নিহত হয়েছেন। সে একই এলাকার ভারাটিয়া রিকশা চালক রহিছ উদ্দিনের সাত বছরের শিশুকে পাশবিকভাবে হত্যা করেছে। শিশুটির শরীরের বাকি অংশ কাটলি এলাকার মোশারফ হোসেনের নির্মাণাধীন ভবনের টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে মনের পুরনো কোন জেদ বা বিকৃত মানসিকতা থেকেই শিশু সজিবের সাথে নির্মম ও বর্বরোচিত এ ঘটনা ঘটেছে। শিশু সজিবের গলা কাটার বিষয়টি শুধুই একটি হত্যাকাণ্ড।

এ ঘটনায় থানায় দু’টি মামলা হয়েছে। একটি মামলায় সজিবের বাবা বাদী হয়ে গণপিটুনিতে নিহত রবিনকে আসামি করেছেন। অপর মামলাটি শিশু হত্যাকারী রবিনকে গণপিটুনিতে হত্যায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামি করে মামলাটি করেছে। 

শুক্রবার দুটো লাশেরই ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ ক্ষতিয়ে দেখছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

এসময় পুলিশ সুপার আরও বলেন, এর সাথে ছেলে ধরা বা পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা লাগবে এর সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। এ ঘটনার পরপরই নেত্রকোনা জেলা পুলিশ এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিহত রবিন পেশায় একজন রিকশা চালক এবং মাদকাসক্ত। শিশু সজিবের পিতা রইছ উদ্দিনও পেশায় একজন রিকশা চালক। শিশু সজিবের পিতা রইছ উদ্দিন এবং রবিন উভয়েই পূর্ব পরিচিত এবং একই এলাকার বাসিন্দা। ইহা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।

তিনি আরও বলেন, অপরিচিতি হলেই সন্দেহ করে কাউকে মারপিট করা যাবে না। এ ধরনের ভুল সিদ্ধান্তে নিজেও অপরাধী হয়ে যেতে পারেন। এতে যে কাউকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। এলাকা, পাড়া বা মহল্লায় অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে আগে তার সাথে কথা বলুন এবং তার পরিচয় সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হন। তারপর কোথাও কোন সমস্যা মনে হলে পুলিশকে সংবাদ দিন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলে ধরা নিয়ে ভীত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। রবিন ছিল ওই শিশুরই প্রতিবেশী এবং এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্ত যুবক। যদি গণপিটুনি দিয়ে রবিনকে না মেরে ফেলা হত তবে প্রকৃত ঘটনা পুলিশের মাধ্যমে অথবা সরাসরি তার মুখ থেকে দেশবাসী দ্রুত সময়েই শুনতে পারত। আইন কারো হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ নেই। 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বারহাট্টা রোড এলাকার সুইপার কলোনির আশপাশে শিশু সজিবের কাটা মাথা ব্যাগে নিয়ে ঘোরার সময় এলাকাবাসী চোর সেন্দহে রবিনকে ধাওয়া করে। পরে নিউটাউন অনন্তপুকুর পাড়ে ব্যাগ বহনকারী রবিনকে আটক করে জনতা তল্লাশি চালিয়ে শিশুর কাটা মাথা পায়। এরপরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়।  


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য