শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০৩:০৭

৩ স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণে জড়িত ৩ আসামির ২ জনের স্বীকারোক্তি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

৩ স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণে জড়িত ৩ আসামির ২ জনের স্বীকারোক্তি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের সাতকোয়া পাহাড়ি বন এলাকায় বেড়াতে গিয়ে তিন স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত তিন আসামির মধ্যে দুই আসামি বাবুল (৩০) ও ইউসুফ (৩৫)। 

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুমন কুমার কর্মকার ও আরিফুল ইসলাম জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অপরদিকে, ধর্ষিতা ওই তিন স্কুল ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষিতা ছাত্রীদের ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে নেয়া হয়।

টাঙ্গাইল জর্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ( পিপি) অ্যাডভোকেট এস আকবর খান আসামির জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইউসুফ ও বাবুল ও তাদের এক সহযোগী মিলে ওই তিন স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি পরে আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত ।

এর আগে ঘটনায় জড়িত উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের সাতকুড়া গ্রামের ইউসুফ, বাবুল এবং ঘাটাইল পৌর এলাকার উত্তর পাড়া গ্রামের সুমন নামের ওই তিন আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে সোমবার রাতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘাটাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। ভিকটিমরা সবাই ঘাটাইল এ.সি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গত সোমবার এক ছাত্রীর বাবাবাদি হয়ে বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ভিকটিমদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ভিকটিমদের আদালতে নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত রবিবার উপজেলার এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির চার ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক  দুপুর দেড়টায় তারা ঝড়কা এলাকায় যায়। সেখানে তাদের সাথে যোগ দেয় বন্ধু হৃদয় ও শাহীন। 

পরে তারা আশিক নামের এক ব্যক্তির ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাযোগে সাতকুয়া এলাকায় ঘুরতে যায়। এসময় ৫-৭জন ব্যক্তি তাদের ঘিরে ফেলে হৃদয়, শাহীন ও আশিককে মারধর করে তিন ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এবং অপরকে ভাগ্নির মতো দেখা যায় বলে তাকে ধর্ষণ করা থেকে বিরত থাকে। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আটকে রেখে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। 

পরে ওই চার ছাত্রী সেখানে তাদের একজনের নানীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়। অভিভাবকরা থানা পুলিশকে জানালে তারা চার স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) এক ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।


বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য