শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:১৩
আপডেট : ৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৭:০৮

ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে আত্মগোপনে ২ নেতা, অতঃপর...

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে আত্মগোপনে ২ নেতা, অতঃপর...

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের কর্মকান্ডের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) পোষ্ট দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা। ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে পুলিশ তাদের আটক করতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 

অন্যদিকে অভিযুক্ত দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস. এম. মাহবুব হোসেন।

জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা সম্প্রতি তার নিজের ফেসবুক টাইম লাইনে সরকারের সমালোচনা করে একাধিক স্ট্যাটাস দেন। যার একটিতে তিনি বলেন-‘আওয়ামীলীগ এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছে। বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছেন! প্লিজ দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথা থেকে বের হয়ে আসুন!’। অন্য আরেকটি পোষ্টে এই নেতা বলেন-‘চীনে করোনা ভাইরাস হওয়ার কিছুদিন পর প্রধানমন্ত্রী মসজিদগুলো মুসলমানদের জন্যে খুলে দিল! আর সৌদি আরব, কুয়েত ও বাংলাদেশ মসজিদে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করে দিল।’ 

ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম মাহবুব হোসেন করোনা পরিস্থিতিতে মাঠে নিয়োজিত একটি বিশেষ বাহিনীর কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনা করে স্ট্যাটাস দেন। এতে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

বিষয়টি নজরে আসার পর জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি তাদেরকে দল থেকে বহিস্কারের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন। সংসদ সদস্যের নির্দেশে পুলিশ তাদেরকে আটক করতেও অভিযান চালিয়েছে।

বিজয়নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তানভীর ভূইয়াসহ একাধিক দলীয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপর তাদেরকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির পর তাদের বিরুদ্ধে দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য