শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ জুন, ২০২০ ১১:৫১

তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত

খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে লালমনিরহাটের বানভাসি মানুষের

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে লালমনিরহাটের বানভাসি মানুষের

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী কৃষি নির্ভরশীল লালমনিরহাট জেলার। তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি কমে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ধরলার পানিও জেলার কুলাঘাট পয়েন্টে কমতে শুরু করেছে। তবে উজানে পানি কমলেও ভাটিতে পানি প্রবাহ বেড়ে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। পানিবৃদ্ধির কারণে দুর্গত এলাকার অনেক মানুষ পরিবার-পরিজন ও গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, উঁচু রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উপর।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুহিবুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাটের প্রধান দুই নদী তিস্তা ও ধরলার পানি উঠা-নামা করে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে। 

জেলার ৫টি উপজেলার নদ-নদী তীরবর্তী গ্রাম ও চরের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার আমন বীজতলা, বাদাম, তিল, পাট, ভুট্টা ও সবজী খেত। পানিবন্দী মানুষকে দিন কাটাতে হচ্ছে অনাহারে-অর্ধাহারে। নলকূপ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পাওয়া যাচ্ছে না বিশুদ্ধ পানি। বাড়ি ছেড়ে রাস্তা ও বাঁধের উপর আশ্রয় নেওয়া মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। শুকনো খাবার পাউরুটি, চিড়া, মুড়ি, গুড় খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে তাদের।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কুরুল এলাকায় ধরলা নদীর ডান তীরে পানি উন্নয়নের বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি গ্রামে ঢুকছে। এখানে নতুন করে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ভেসে গেছে তিস্তা ধরলার উপকুলের অসংখ্য পুকুরের মাছ।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তিস্তা পাড়ের মহিষখোঁচা গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, তারা ৫ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরের ভেতরে কোমর উচ্চতায় পানি। চলাফেরা করতে পারছেন না। রান্না করতে না পারায় শুকনো খাবার খেয়ে বেঁচে আছেন। তবে সরকারি ও বেসরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা এখনো পাননি বলে তার দাবি।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী গ্রামের পানিবন্দী কৃষক আসলাম মিয়া জানান, তিনি ৩৮ হাজার টাকা খরচ করে ৪ বিঘা জমিতে তিল ও বাদাম লাগিয়েছিলেন। এখন বন্যার পানির নিচে এই ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবে তা ভেবে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন
একই উপজেলার সিঙ্গিমারী চরের পানিবন্দী রহমত হোসেন জানান, তারা পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কিন্তু ভাগ্যে জুটছে না কোনো ত্রাণ সহায়তা। পাউরুটি আর চিড়া খেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন কাটছে। রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চলাফেরা করতে হচ্ছে নৌকায়। আরও পানি বাড়লে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বের হতে হবে বলে তিনি জানান।
পানিবন্দী মানুষের জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ছয় লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিলেও এখনো বিতরণ শুরু করা হয়নি। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর