শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ জুলাই, ২০২০ ১৮:২৪

যাচাই-বাছাই শেষে বিরল স্থলবন্দরের কাজ শুরু হবে: রেলমন্ত্রী

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর:

যাচাই-বাছাই শেষে বিরল স্থলবন্দরের কাজ শুরু হবে: রেলমন্ত্রী

বহু আকাঙ্খিত এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের চতুর্দেশীয় বিরল স্থলবন্দরের রেলসংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা পরিদর্শন শেষে বিরল রেল স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম সুজন এমপি ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। 

বিরল স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশি অংশে ৪ লেনের বাড়তি রেলপথ তৈরির প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাইসহ বিরল স্থলবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ অতিদ্রুত শুরু করা হবে। তিনি বলেন, আমরা অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সুবিধাসহ সকল ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। 

বিরল স্থলবন্দর পরিদর্শনের পর সোমবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সূধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম সুজন এমপি। সেখানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

বেসরকারী পর্যায়ে অবকাঠামো নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করলেও বন্দরটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। আজকের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চালু হতে চলেছে দিনাজপুর বিরলের পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর। পশ্চিমবঙ্গের রাধিকাপুর হয়ে ভারত নেপাল এবং ভুটানের সাথে ৪ দেশের মধ্যে সরাসরি পন্য আমদানি রফতানির পাশাপাশি যাত্রীও পরিবহন করা যাবে রেলপথ এবং সড়ক পথে। এতে সরকারি রাজস্ব আদায় এবং ভাড়া বাবদ রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি ছাড়াও সময় এবং পণ্য পরিবহনে ব্যয় কমে আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। এতে বিরল স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য পরিবহনের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আর এটি চালু হলে ভারত, ভুটান, নেপাল এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবেশ দ্বার হতে পারে।

এদিকে, বেসরকারী বিরল পোর্ট ল্যান্ড লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল চৌধুরী জানান, এই ল্যান্ড পোর্টের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে যেদিন আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে তার দুইমাসের মধ্যে এই পোর্ট চালু করা যাবে। এই বন্দর চালু হয় তবে এ অঞ্চলের আত্মসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসবে। 

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত ভারত এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মিটার গেজ রেলপথে নেপাল, ভারত এবং মিয়ানমায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে মধ্যে সিমিত সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রেন চলতো বিরল রেলপথ দিয়ে। ২০০৬ সালে ভারত রাধিকাপুর পযর্ন্ত ব্রড গেজ রেলপথ স্থাপন করায় রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ব্রডগেজ রেললাইন হওয়ায় বাংলাদেশে আর মালবাহী ট্রেন আসতে পারত না। এতে ২০০৫ সালের মে মাস থেকে রেলপথে দুদেশের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৬ সালে বিরল স্থলবন্দর অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বিরল সীমান্ত লাগোয়া চক শংকরপুর মৌজার মানিকপাড়া গ্রামের প্রান্তরে স্থলবন্দরের সংরক্ষিত সাড়ে ১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৭ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ডুয়েল গেজ রেলপথে বানিজ্য শুরু হয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি দল কয়েকবার বিরল স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন। ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নেপালের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. প্রফেসর ড. চোপলাল ভুষাল বিরল-রাধিকারপুর রেলপথের পাকুড়া চকশংকর এলাকার বি.ডি সাইটও পরিদর্শন করে গেছেন।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর