শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:২৭
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:৩২

সিরাজগঞ্জে চোর সন্দেহে যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে চোর সন্দেহে যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ছাগল চোর সন্দেহে এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। বর্বর এ নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। 

ভিডিওটিতে নির্যাতন না করে পুলিশে দেয়ার জন্য স্থানীয়রা নির্যাতনকারীকে অনুরোধ করলেও সেযুবকের হাত-পায়ের নখ প্লাস দিয়ে ওঠিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল কলেজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছাগল চুরি সন্দেহে এক যুবককে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে কলেজপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী ফরহাদুল হক হ্যাপি প্লাস দিয়ে যুবকের হাত-পায়ের নখ তুলে  দিলে দিচ্ছে। এসময় যুবকটি আর্তচিৎকার করছে। মাঝে মাঝে হ্যাপির ছেলে রড দিয়ে পেটাচ্ছে। 

দৃশ্যটি দেখে স্থানীয় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে চোরকে না মেরে পুলিশে সোপর্দ করার অনুরোধ করেন। এ সময় হ্যাপি বলেন, ওকে মারধরতো করাই হয় নাই। কেবল দুইটা আঙ্গুল ভাঙসি। একেবারে মেরে ফেলবো না। বাকী চোরদের নাম না বললে ওর হাত-পা ভাঙ্গবো তারপর ছাড়বো। 

প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম বলছেন, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি ছাগল নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় ছাগলের মালিক ফরহাদুল হক হ্যাপী পুকুরের গোসল করার সময় দেখে ফেলে তাকে দৌড়ে ধরে ফেলে। এসময় হ্যাপি ওই ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে গাছের সঙ্গে বেধে বেদম মারধর করে। তার ছেলেও শান্তও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। 
বারবার নিষেধ করা হলেও কারও কথা শুনেনি বাবা-ছেলে। প্রায় দুই ঘন্টা গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করেছে। মারধরের কারণে যুবকটি দাঁড়াতে পর্যন্ত পারেনি। বর্বর নির্যাতনের কাছে যুবকটি আর্তচিৎকার করছিল। উপস্থিত সবাই তাকে থানায় সোপর্দ করার অনুরোধ করলে সে বলে ওকে একেবারে মেরে ফেলব না। শুধু হাত-পা ভেঙ্গে দিবো। পরে স্থানীয় নারীদের অনুরোধে যুবকটিকে ছেড়ে দেয়া হয়। 

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ফরহাদুল হক হ্যাপি জানান, কয়েকদিন আগে আমার একটি ছাগল হারিয়েছে। আবার আরেকটি ছাগল নিয়ে যাওয়ার সময় ছাগল চোরকে ছাগলসহ হাতেনাতে ধরে দুই-একটা চড় থাপ্পর দিয়ে ছেড়ে দেই। এ ব্যাপারে থানা থেকে পুলিশ এসেছিল। আমি বাড়িতে না থাকায় মুঠোফোনে থানার লোকদের সাথে কথা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্যাতিত যুবককে পাওয়া যায়নি। তার নাম-ঠিকানা কেউ জানে না। তবে কয়েকদিন আগে একটি ছাগল চুরি হয়েছিল। সন্দেহবশত যুবকটিকে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনকারী হ্যাপি ও তার ছেলেকেও পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। 


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর