শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০২০ ১৪:৫০

মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধু ফাদার রিগনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বাগেরহাট প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধু ফাদার রিগনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
ফাদার মারিনো রিগনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বিদেশি বন্ধু, শিক্ষানুরাগী, কবি-সাহিত্যিক-অনুবাদক ফাদার মারিনো রিগনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (মঙ্গলবার) পালিত হয়েছে। 

ইতালিয়ান নাগরিক ফাদার মারিনো রিগন খ্রিস্টান ধর্মের যাজকীয় দায়িত্বপালনের অংশ হিসেবে ১৯৫৩ সালে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মালগাজী গ্রামে প্রথমে আসেন। মোংলার শেলাবুনিয়ায় ৪০ বছর বসবাসকারী ফাদার রিগনের হাত দিয়েই প্রতিষ্ঠা পায় মোংলার স্বনামখ্যাত স্কুল সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়সহ ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ইতালিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফাদার রিগন। তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর এক বছর পরে ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর তার মরদেহ দেশে এনে মোংলার শেলাবুনিয়ায় সেন্ট পল্স চার্চে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদান রাখা বিদেশি বন্ধু ফাদার মারিনো রিগনকে সরকার ২০০৯ সালে সম্মানসূচক বাংলাদেশি নাগরিকত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ২০১২ সালে  মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করে। এ ছাড়া ফাদার রিগন ১৯৮২ সালে কবি জসিম উদ্দিন একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন। 

যাজকীয় দায়িত্ব পালনের বাইরে এসে তিনি ইতালিয়ান ভাষায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলিসহ ৪০টি কাব্যগ্রন্থ, লালন সাঁইয়ের সাড়ে তিনশ গান, জসিম উদ্দিনের নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট ছাড়াও এদেশের গুরুত্বপূর্ণ কবিদের অসংখ্য কবিতা অনুবাদ করেন।

ফাদার মারিনো রিগনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে তার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন মোংলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার রাজবংশী, সেন্ট পল্স চার্চ, মোংলা সরকারি কলেজ, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠন। এ ছাড়া ফাদার মারিনো রিগন স্মরণে মোংলার মালগাজী মিশনবাড়ীর মাঠে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং সেবা সংস্থা। 

ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. নমিতা হালদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগ বাগেরহাটের উপ-পরিচালক উপসচিব দেব প্রসাদ পাল, মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশী, শিক্ষাবিদ সুনীল কুমার বিশ্বাস, ফ্রান্সিস সুদান হালদার, মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম সরোয়ার, উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন, ফাদার রিগনের ওপর নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের প্রযোজক আয়েশা আক্তার লিজা, পরিচালক হেমন্ত সাদিক, চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মো. তারিকুল ইসলাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান মো. নূর আলম শেখ, সেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মিনা হালদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনীন্দ্র নাথ হালদার প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদান রাখার পাশাপাশি ফাদার রিগন বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পদকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরেছেন। তিনি ধর্ম জীবন এবং শিল্প জীবনকে পৃথকভাবে দেখেননি। তার মস্তকে ছিল রবীন্দ্রনাথ আর অন্তরে ছিল লালন। বাংলাদেশে শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং মনুষ্যত্ব বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন ফাদার রিগন। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর