শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:৩৯
আপডেট : ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০৬:২৬

বাবার হাতে মা খুন: কী হবে মৌমিতা-মহিমার?

নাটোর প্রতিনিধি

বাবার হাতে মা খুন: কী হবে মৌমিতা-মহিমার?
মৌমিতা ও মহিমা

বড় বোন মৌমিতা অষ্টম শ্রেণির এবং ছোট বোন মহিমা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের একটি ছনের তৈরি ঘরে তাদের বসবাস। দুই বোনই স্থানীয় একডালা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মা দিনমজুরি করলেও বেশ আনন্দেই কাটছিল শিশু দুই বোনের জীবন। মায়ের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে তারা চাকরি করে মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে। কিন্তু তাদের সেই আনন্দকে নিমিষেই কেড়ে নেয় বাবার রক্তচক্ষু। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বাবা তাদের মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে, বাড়ির আঙিনায় ফেলে রেখে যান।

মায়ের এমন মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনে নেমে এসেছে অমানিশা। এখন তাদের ভরণ-পোষণ বা লেখাপড়ার খরচ মেটাবে কে? লেখাপড়া হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু খাবার জুটবে কোথা থেকে? 

মা জীবিত থাকাকালীন একবেলা হলেও খাবার জুটেছে। শত কষ্ট হলেও তাদের দুই বোনের আবদার মিটাতেন মা আনোয়ারা বেগম শিল্পি। বাবা মঈনুল হোসেন মনির সোমবার রাতে মাকে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর তারা এখন এতিম। এখন ওদের ভবিষ্যৎ কেবলই অন্ধকার।

বড় বোন মৌমিতা জানায়, তার বাবা একজন ভবঘুরে প্রকৃতির। প্রায় সময়ই বেকার থাকেন। বাড়িতে থাকেন না। বলেন, ঢাকাতে কাজ করেন। মাঝে মধ্যেই কোথা থেকে এসে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া-ঝাটি বাধিয়ে বসেন। সোমবার রাতের ওই ঘটনার কদিন আগে তার বাবা বাড়িতে আসেন। 

তার বর্ণনামতে, ঘটনার রাতে আমি পাশেই নানার বাড়িতে ছিলাম। রাতে গ্রামে মানুষের কোলাহলে ঘুম ভেঙে গেলে শুনতে পাই- বাবা মাকে মেরেছে। তবে মাকে যে বাবা মেরে ফেলেছে তা জেনেছি সকালে। মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। ওই রাতে মহিমা ছিল বাবা-মার কাছে।

১১ বছরের মহিমার বর্ণনায়, রাতে বাবা আমার মাকে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মায়ের গোঙানি আর চিৎকার শুনতে পাই। বাবা যে মাকে মারছে তা বুঝতে পারছি। কিন্তু একদম মেরে ফেলবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। এখন আমাদের কী হবে কাকু? আমাদের বাঁচাবে কে? এমন আকুতি ছিল মহিমাদের চোখে মুখে। 

ওদের আকুতিভরা কথায় উপস্থিত সবার চোখে পানি ছলছল করছিল। তখন প্রতিবেশীদের অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন ওদের দুই বোনের কি হবে?

প্রতিবেশী আবুল হোসেন জানান, ওরা এখন নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ওদের নানা বাহার আলী একজন রিকশা চালক। বয়সের ভারে তিনিও শরীরের শক্তি হারাতে বসেছেন। দুই নাতনিকে হয়ত আধপেটা খাবার যোগান দিতে পারবেন তিনি। কিন্তু তাদের লেখাপড়া, কাপড়-চোপড়সহ আনুসাঙ্গিক বিষয় দেখবে কে? উপস্থিত অনেকেই এই দুই বোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা কামনা করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওমর আলী প্রধান নিজেও শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ওদের দুই বোনের জন্য কী করা যায়, তা নিয়ে পরিষদে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবেন। এ ছাড়া নাটোরের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজসহ স্থানীয় হৃদয়বানদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন। তিনি ওই দুই শিশু কন্যার জন্য বিত্তবানদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বুধবার বিকালে দুই শিশুর হাতে খাদ্য তুলে দেন বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টিফোরের নাটোর প্রতিনিধি নাসিম উদ্দীন নাসিম।

জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং দুই শিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করাসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে, কিছু একটা ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। 
 
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

BP

আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর