প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:০২
প্রিন্ট করুন printer

হত্যার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

হত্যার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ভাই মো. জামাল মুন্সিকে (৫০) টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যার চরচারতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন খন্দকারসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত ব্যক্তি আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হানিফ মুন্সির ছোট ভাই।

গতকাল শনিবার দিবাগত গভীর রাতে নিহত জামাল মুন্সির বড় ভাই জাহাঙ্গির মুন্সি বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন- আবু সহিদ, সেলিম মিয়া, জিয়াউদ্দিন খন্দকার, আবদু মিয়া, জাকির মিয়া (পিচ্ছি জাকির), পলাশ মিয়া, শফিকুল ইসলাম, তজুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, মো. আজিজ, রফিকুল খন্দকার, জুবায়ের ইসলাম, সাদ্দাম মিয়া, নাছির মিয়া, দিলু মিয়া, মাসুদ মিয়া, মাহবুবুর রহমান, মনা মিয়া ওরফে রমজান, পাবেল মিয়া, কাউছার মিয়া, খোকন মিয়া, রনি মিয়া, মো. রাব্বি, বাদল মিয়া, সোহেল মিয়া, সুমন মিয়া ও ইকরান। তাদের সকলের বাড়ি চরচারতলা এলাকায়। এছাড়া আরও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন খন্দকারের যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে হামলা করে বাড়ির প্রধান ফটকে ভাঙচুর করতে তাকে। এসময় মামলার বাদী জাহাঙ্গির মুন্সি ও জামাল মুন্সি তাদের বাধা দিলে আবু সহিদ, সফিকুল ইসলাম, জাকির হোসেন ও মো. আজিজ নিহত জামাল মুন্সিকে ঝাপটে ধরে। 

এসময় পলাশ মিয়া তার হাতে থাকা বল্লম দিয়ে জামাল মুন্সির বুকে আঘাত করে। আর অন্যান্য আসামিরা আরও কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে জামাল মুন্সিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার বাদী জাহাঙ্গির মুন্সি জানান, আমি এই হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। চরচারতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউদ্দিন খন্দকার বলেন, উল্লেখিত দ্বন্দ্ব ও হত্যাকান্ডের সাথে আমার কোনো সম্পর্কও নেই। ঘটনার খবর শুনে আমি সাথে সাথে আশুগঞ্জ থানাকে অবহিত করি। একজন চেয়ারম্যান হিসেবে নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করি। নিছক রাজনৈতিক কারণে এ ঘটনার সাথে আমাকে জড়ানো হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। 

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাবেদ মাহমুদ জানান, নিহত জামাল মুন্সির বড় ভাই জাহাঙ্গির মুন্সি বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে নামধারী ৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের আটক করার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর