শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:০৯
প্রিন্ট করুন printer

জমির সদ্ব্যবহারে মডেল রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট

১৭৫ শতাংশ পতিত জমিতে ১৩ ধরনের শাক-সবজি উৎপাদন

রাহাত খান, বরিশাল:

জমির সদ্ব্যবহারে মডেল রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট

বরিশালের রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ডান পাশে চোখে পড়বে সারি সারি আম, লিচু, সুপারি ও নারিকেল গাছ। সুপারি গাছ জড়িয়ে বেড়ে উঠেছে সীমের লতা। অন্যান্য গাছেও জড়িয়ে আছে সীম গাছের লতা। 

ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়, ড্রেনের দুই পাশে, রাস্তার পাশে, জমির আইলে, গাছের নীচে ছায়া ও অর্ধ ছায়াযুক্ত সকল পতিত জমিতে সারি সারি মিস্টি কুমড়া, করল্লা, লাউ, টমেটো, ব্রোকলী, লেটুস পাতা, বেগুন, পালংশাক, লাল শাক, বরবটি, ক্যাপসিক্যাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম সহ ১৩ ধরনের শাক সবজির চাষ করেছে কর্তৃপক্ষ। রয়েছে দোতাল (ভার্টিক্যাল এগ্রিকালচার) কৃষিও, অর্থাৎ মাচায় করল্লা নীচে মিষ্টি কুমড়া। সব কৃষির ফলনও হয়েছে বেশ। প্রধানমন্ত্রী করোনা পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি ইঞ্চি জমির সঠিক ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করার পর কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট সে পথে হেঁটেই সফল হয়েছে। এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী না থাকার এই পদ্ধতি এখন কৃষকদের কাছে মডেল।

ইন্সটিটিউটের উপ-সহকারী প্রশিক্ষক আসমা ইসলাম কেয়া বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অবকাঠামো-স্থাপনা এবং পুকুর বাদে ১৭৫ শতাংশ জমি পতিত ছিল। যেখানে কোন ফসল হত না। কখনও চাষ করা হয়নি। পুরো পতিত জমি এবার কৃষির আওতায় নিয়ে আসেন তারা। বারোমাস এতে কোন না কোন শাক সবজী হবে। এছাড়া একই জমিতে চাষ করা হচ্ছে দোতালা কৃষি (ভার্টিক্যাল এগ্রিকালচার)। এর মাঁচায় করল্লা এবং নীচে চাষ করা হচ্ছে মিস্টি কুমড়ার। যে কেউ এই পদ্ধতি অবলম্বন করে বাড়ির আঙ্গিনায়, রাস্তার পাশে  বাগানে, ছায়ায়-অর্ধ ছায়া জমিতে এসব কৃষি করলে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বানিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারবে। 

বরিশাল কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্মকর্তা নাহিদ-বিন রফিক বলেন, নতুন এই পদ্ধতি ইতিমধ্যে কৃষকদের মাঝে সারা ফেলেছে। প্রতি ইঞ্চি জমির সুষ্ঠু ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঠ দিবস সহ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কৃষকদের পতিত জমিতে কৃষি করতে ধাবিত করা হচ্ছে। 

রহমতপুরের স্থানীয় কৃষক শফিক হাওলাদার বলেন, বাড়ির আশপাশে আগে অনেক জমি খালী থাকতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওই জমিতে কৃষি করে ভালো ফলন পেয়েছেন। নিজেদের চাহিদা অবশিস্ট সবজি বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন। 

আরেক কৃষি উদ্যোক্তা রিয়াজ সিকদার জানান, পতিত জমিতে ফসল হতো সেটা তিনি জানতেন না। ইন্সটিটিটের নতুন পদ্ধতির কৃষি দেখে তারাও পতিত জমিতে কৃষি করে সফল হয়েছেন। 

রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষন ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ জিএম ইদ্রিস জানান, দুই বছর আগে তিনি যখন এখানে যোগদান করেন তখন ক্যাম্পাসের সব জমি পতিত ছিলো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পতিত জমিতে পরীক্ষামূলক বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি উৎপাদন করে কৃষকদের নতুন পদ্ধতিতে ধাবিত করা হচ্ছে। সব কৃষক পতিত জমি কৃষির আওতায় আনলে তারা নিরাপদ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং আর্থিকভাবেও লাভবান হবে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর