শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:৪৪
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:০৭
প্রিন্ট করুন printer

যে কারণে পিয়াজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চরাঞ্চলের কৃষকদের

খন্দকার একরামুল হক সম্রাট, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

যে কারণে পিয়াজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চরাঞ্চলের কৃষকদের
গত বছর দাম বেশি হওয়ায় এবার লাভের আশায় চরাঞ্চলের কৃষকেরা অন্য ফসল বাদ দিয়ে, পিয়াজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন

পিয়াজের চাহিদা অনুযায়ী গত বছর বাজারে এর প্রচুর দাম ছিল। কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত পিয়াজের দাম হাকান ব্যবসায়ীরা। এতে সারাদেশে পিয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। পিয়াজের এই ব্যাপক চাহিদা পূরণ ও বাজারে মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় এবার কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে অনেক জমিতে পিয়াজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকেরা।

ব্রহ্মপুত্র নদের চরগুলোতে বিগত বছরের চেয়ে এবার পিয়াজের বাম্পার ফলন হওয়ার প্রত্যাশায় কৃষকেরা। কম খরচে অধিক ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা তাদের। প্রতি একরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে জানান কৃষকরা।

চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের উৎস কৃষিজমিতে চাষাবাদ ও মাছ ধরা। উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের চরশৌলমারী ও যাদুরচর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড়ে গ্রামবাসী নদী ভাঙনের ফলে ফসলি জমি ও ভিটা-মাটি হারিয়ে বালুরচরে বাড়ি নির্মাণ করে, বসবাস করছেন। 

গত বছর দাম বেশি হওয়ায় এবার লাভের আশায় চরাঞ্চলের কৃষকেরা অন্য ফসল বাদ দিয়ে, পিয়াজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পিয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান অনেকেই। রৌমারী উপজেলার খেদাইমারী গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, আমি গত বছর অল্প জমিতে পিয়াজ চাষ করেছিলাম। এবার বেশি চাহিদা থাকায় ২ একর জমিতে পিয়াজ চাষ করেছি। আমার একরপ্রতি খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ১ একর জমিতে ফলন হবে ৮০-৯০ মণ। মণ পিয়াজ ১,৬০০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। এতে আমি অনেক লাভের আশা করছি।

চরের অপর কৃষক রিয়াজ উদ্দিন জানান, চরের বালুমিশ্রিত জমিতে অন্য ফসলের তুলনায় পিয়াজ চাষ ভালো হয়। আমরা অনেক কৃষক এবার পিয়াজ চাষ করেছি। এবার চরাঞ্চলে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে পিয়াজের আবাদ হয়েছে। 

স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু হানিফ মাস্টার বলেন, পিয়াজ, কাউন, বাদাম, মাসকালাই, মসুর ডালসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করেন এখানকার চাষিরা। কিন্তু এবার অনেকেই পিয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। 

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এ উপজেলায় ২১০ হেক্টর চরাঞ্চল আছে। এর মধ্যে ১০০ হেক্টর চরাঞ্চলের জমিতে পিয়াজের চাষাবাদ হচ্ছে। বাকি চরাঞ্চলের পতিত জমি পিয়াজ চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড় চরাঞ্চলের মাটি পিয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর