শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ মার্চ, ২০২১ ২০:২০
আপডেট : ৮ মার্চ, ২০২১ ২০:২৫
প্রিন্ট করুন printer

প্রতিবন্ধী যুবককে নিজেদের সন্তান দাবি দুই পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

প্রতিবন্ধী যুবককে নিজেদের সন্তান দাবি দুই পরিবারের

রংপুরের মিঠাপুকুরে বাকশ্রবণ ও পঙ্গু প্রতিবন্ধী এক যুবককে নিজেদের সন্তান দাবি করেছে দুটি পরিবার। এনিয়ে মিঠাপুকুর থানায় দুই পরিবারের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে ডিএনএ ট্রেস্টের মাধ্যমে বৈধ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

রবিবার রাতে মিঠাপুকুর থানার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার বিকেলে প্রতিবন্ধী ওই যুবককে রংপুরের মিঠাপুকুর আমলী আদালতে পাঠানো হলে আদালতের বিচারক তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানাগেছে, দুই পরিবারের সন্তান দাবি করা ওই যুবকের নাম ঠিকানা দুই রকম। এক পরিবারের দাবি অনুযায়ী তার নাম মো. নাহিদ (২৬), বাবা ফজলু মিয়া, মা লালমাই বেগম। গ্রামের বাড়ি লতিবপুর ইউনিয়নের রশিদপুর। অন্য পরিবারের দাবি-যুবকের নাম লিটন মিয়া (২২)। তার বাবার নাম মো. ওয়াহেদ আলী, মা নিলুফা বেগম। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামে তাদের বাড়ি।

পুলিশ জানায়, মিঠাপুকুর উপজেলার রশিদপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়ার অভিযোগ করেন, তার প্রতিবন্ধী ছেলে নাহিদ ৪ বছর আগে উপজেলা সদর থেকে হারিয়ে যায়। বিভিন্নস্থানে খোঁজ করে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় সন্ধান পায় তারা। সেখানে প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে ভিক্ষাবৃত্তি করছে বলে জানান ফজলু-লালমাই দম্পত্তি। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার ওই যুবককে উদ্ধার করে মিঠাপুকুর থানায় নিয়ে আসা হয়। এসময় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের ওয়াহেদ ও নিলুফা দম্পত্তি থানায় এসে ওই যুবক তাদের সন্তান বলে দাবি করেন।
ফজলু-লালমাই দম্পত্তি বলেন, ৪ বছর আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সদরে গিয়ে হারিয়ে যায় নাহিদ। পরে, ঢাকার আশুলিয়ায় সন্তানকে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করতে দেখি। প্রতারক চক্র ছেলেকে নিয়ে গিয়ে ভিক্ষুকের পেশায় নামিয়েছে। তাকে দিয়ে টাকা আয় করছে। এজন্য আমাদের কাছে ফেরত দিচ্ছেনা। অন্যদিকে, ওয়াহেদ ও নিলুফা দম্পত্তি বলেন, সন্তান তাদেরই। তার নাম লিটন। তার নামে ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ভাতার টাকা উঠাই।’ এভাবে দুই পরিবারই সন্তানের স্বপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন। কিন্তু, কেউ ছাড় দিতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে থানার প্রধান ফটকের সামনে ফজলুর পক্ষের শতশত মানুষ জড়ো হয়ে সন্তান ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এসময় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভকারীদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু সন্তান ছেড়ে কিছুতেই তারা বাড়ি ফিরতে রাজি হয়নি। পরে, ওসি আমিরুজ্জামান ও লতিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী মন্ডল ঘোষণা দেন, সন্তান দাবি করা দুই বাবা-মা এবং প্রতিবন্ধী ওই যুবকের আদালতের মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট করা হবে। টেস্ট রিপোর্ট যার পক্ষে আসবে-তাদের কাছে সন্তান ফেরত দেয়া হবে। 
মিঠাপুকুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান বলেন, ওই প্রতিবন্ধী যুবককে আদলতে প্রেরণ করা হয়েছে। ডিএনএ টেস্টসহ পরবর্তী কার্যক্রম আদালত গ্রহণ করবে। তিনি আরো বলেন, একটি জিডি’র ওপর ভিত্তি করে প্রতিবন্ধী যুবকে উদ্ধার করা হয়। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর