শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ মার্চ, ২০২১ ১৯:৩২
প্রিন্ট করুন printer

প্রত্যন্ত জনপদে স্বাস্থ্যসেবায় সাড়া ফেলেছে ‘জিটিসি’

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রত্যন্ত জনপদে স্বাস্থ্যসেবায় সাড়া ফেলেছে ‘জিটিসি’
জিটিসি চ্যারিটি হোমে একজন অভিজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার প্রতিদিন এলাকার ৪০-৫০জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন

অবহেলিত, অনুন্নত দিনাজপুরের মধ্যপাড়া এখন অন্যান্য গ্রামীণ জনপদের চেয়ে উন্নত। পাল্টে গেছে এলাকাবাসীর জীবনমান ও অর্থনীতির চেহারা। বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক সেবা দিয়ে এলাকাবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ‘জিটিসি চ্যারিটি হোম’। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে গ্রামীণ জনপদ হরিরামপুর ইউপিতে এই মধ্যপাড়া।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা বিবেচনায় খনি উন্নয়নের সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে খনির সসামনে ‘জিটিসি চ্যারিটি হোম’ স্থাপন করা হয়। জিটিসি চ্যারিটি হোমে একজন অভিজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার প্রতিদিন এলাকার ৪০-৫০জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। সেই সাথে প্রতি মাসে খনি শ্রমিকদের উচ্চশিক্ষায় অধ্যায়নরত সন্তানদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তি, নন এমপিওভুক্ত মধ্যপাড়া মহাবিদ্যালয়কে মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে আর্থিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে এ “জিটিসি চ্যারিটি হোম”। 

পাচঁপুকুর গ্রামের বিধবা বৃদ্ধা মোছা. সফিরন বেওয়া বলেন, ‘মুই অনেকদিন থেকে অসুখে ভুগছো, সরকারি হাসপাতাল মেলা দূর। যাবারও পারো না। শুননু, এই খনির জিটিসি নাকি এটি একটা বড় ডাক্তার বসাইছে হামার এলাকার মানুষের চিকিৎসা দিবার তনে। তাই আইছু বাবা। ডাক্তার মোক দেখলো। ঔষুধ দিল। মনে হছে, এবার অসুখ ভালো হবে মোর।’
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোছা. সুলতানা পারভিন বলেন, ‘আমার বাবা প্রায় ২০-২২ বছর ধরে এই খনিতে চাকরি করছেন। ইতিঃপূর্বে খনি শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে জিটিসি’র মতো এমন করে কেউ কখনো ভাবেনি।
 
মধ্যপাড়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, কলেজটি এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় তাদের শিক্ষক কর্মচারীরা সরকারি কোনো বেতন ভাতা পান না। শিক্ষকদের এমন দুর্দশায় জিটিসি প্রতিমাসে আর্থিকভাবে তাদের সহায়তা করে পাশে দাঁড়িয়েছে। 

জিটিসি চ্যারিটি হোম নিয়ে জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) নির্বাহী পরিচালক জাবেদ সিদ্দিকী জানান, এই খনির জন্য এলাকাবাসীর অনেক ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। বর্তমানে জিটিসি’র হাত ধরে পাথর খনি পর পর দু’বছর লাভের মুখ দেখেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা বিবেচনায় এই খনির উন্নয়নের সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমার কোম্পানি খনি শ্রমিকদের উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়ররত সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তি , এলাকাবাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে চ্যারিটি হোম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

  
 

 

এই বিভাগের আরও খবর