শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল, ২০২১ ১৩:২৬
প্রিন্ট করুন printer

শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর নির্যাতন মামলা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর নির্যাতন মামলা
আছমত আলী
Google News

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।  সমাজবিজ্ঞান বিভাগের  শিক্ষক আছমত আলী দীর্ঘদিন থেকে নানা অজুহাতে স্ত্রীকে নানা নির্যাতন করে আসছিলেন। নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে মামলা করেছেন স্ত্রী নুর বানু। স্ত্রীর অভিযোগ বারবার বিচার-সালিস করেও বদলাননি স্বামী আছমত আলী। তাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পঞ্চগড়ে মামলা করেছেন তিনি। 

মামলা ও অভিযোগে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১০ অক্টোবর বিয়ে হয় আছমত আলীর সাথে নুর বানুর। বিয়ের পর নুরবানু বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে চাকরি করার কারণে কুড়িগ্রামে বসবাস করতেন।  সেখানেই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। কিছুদিন পরই শুরু হয় ৫ লাখ টাকার যৌতুক চেয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এর মধ্যে দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় আফিয়া জাহিন স্মিতা ও আহনাফ রাশীদ নাইফ নামে দুই সন্তান। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের জন্য ২০০৯ সালে কুড়িগ্রামে থাকাকালীন স্বামীর বিরুদ্ধে চিলমারী থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করেন নুর বানু। সে মামলায় বেশ কিছু দিন জেল খাটেন আছমত আলী । পরে আপোস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়। 

এরপর আবার যৌতুকের চাপ সৃষ্টি করেন ওই শিক্ষক। ২০১৩ সালের ৭ জুলাই তেঁতুলিয়া নির্বাহী অফিসার বরাবর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন স্ত্রী। আবারও মীমাংসা হয়। কিন্তু এ বছর আবার শুরু করেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি মীমাংসা করেন। কিন্তু  ২৮ মার্চ যৌতুকের জন্য স্ত্রী নুর বানুকে আবার মারধর ও প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন আছমত আলী। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে আদালতে মামলা করেন। মামলার পর থেকে স্বামী আছমত আলী পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আছমত আলী জানান, স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমারও অভিযোগ রয়েছে। নারী নির্যাতন দেখা গেলেও পুরুষ নির্যাতন তো দেখা যায় না। যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের যে অভিযোগ তুলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সে ঘটনা পুরোপুরি মিথ্যা-বানোয়াট। বরঞ্চ তাকে বিয়ে করার পর থেকে দিনের পর দিন পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছি আমি। গত ৯ মার্চ সোনালী ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকা লোন করি। সেই টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে বাড়ি করব ও দুটো অটোরিকশা কিনে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করি। কিন্তু আমার স্ত্রী সেই টাকা দিয়ে তার নিজের জমিতে ঘর করে দেবার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে আমার ওপর সীমাহীন মানসিক নির্যাতন চালায়। সর্বশেষ আমার স্ত্রী আমার বাসা থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরি করে তার ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম শোভনের মাধ্যমে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এতসবের পরেও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা। 

মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন মডেল থানার পুলিশের এসআই দীনবন্ধু রায় । তিনি জানান তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

বিডি প্রতিদিন/কালাম

এই বিভাগের আরও খবর