শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:১৬
প্রিন্ট করুন printer

দিনাজপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে এপ্রিলে রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

দিনাজপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে এপ্রিলে রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি

করোনার এই সময় যখন কর্মহীন মানুষের জীবন-জীবিকার যুদ্ধে দিশেহারা। তখন কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে জিটিসি পাথর উৎপাদনের চাকা সচল রেখেছে এবং খনি কর্তৃপক্ষ চলতি এপ্রিল মাসেই প্রায় ২০ কোটি টাকার রেকর্ড পরিমাণ পাথর বিক্রি করেছে এবং লাভজনক অবস্থা অব্যাহত রেখেছে। ফলে করোনায় অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েনি পাথর খনি এলাকার অর্থনীতিতে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন শুরু হলে খনির শ্রমিক এবং পাথর পরিবহনের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত এলাকার তিন সহস্রাধিক মানুষ এবং ব্যবসায়ী আশঙ্কা করেছিল, এবার মনে হয় খনি বন্ধ হয়ে যাবে। কর্মহীন হয়ে পড়বে এইসব মানুষ। কিন্তু পাথর উত্তোলন ও বিক্রি চালু রাখায় সকল আশঙ্কা দূর হয়েছে। দেশের উন্নয়নে উন্নতমানের পাথর ব্যবহারের কথা ভেবে তিন শিফটে মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকায় পাথর বিক্রিও বেড়েছে।

তাই প্রতিদিন ভোর থেকে খনির মেইন গেটের প্রধান সড়কে শত শত ট্রাক পাথর নিতে লাইন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে প্রতিদিন দুই শতাধিক ট্রাক বিক্রিত পাথর খনি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে পাথর বহন ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত খনি এলাকা। খনি কেন্দ্রীক গড়ে উঠেছে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান।

পাথর খনি সূত্র জানায়, বর্তমানে বিভিন্ন ইয়ার্ডে পাথর মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন। জিটিসি কর্তৃক রেকর্ড পরিমাণ পাথর উত্তোলনে খনির বিভিন্ন ইয়ার্ডে মজুদ থেকে চলতি মাসে পাথর বিক্রি আগের পাথর বিক্রির রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পাথরের বিক্রি আশাতীত হওয়ায় চলতি অর্থ বছররেও (২০২০-২০২১) তৃতীয় বারের ন্যায় মধ্যপাড়া পাথর খনি লাভজনক হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবারও গত দুই অর্থ-বছরের ন্যায় প্রফিট বোনাস পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (ইউজিওএন্ডএম) আবু তালেব ফরাজী বলেন, এপ্রিল মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার মেট্রিক টন পাথর, যার আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি টাকা। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানায় করোনায় কোনো সমস্যা হয়নি এখানে। খনি থেকে গড়ে প্রতিদিন পাথর উত্তোলন হচ্ছে ৪ হাজার মেট্রিকটন এবং বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিকটন। এখন পর্যন্ত খনির বিভিন্ন ইয়ার্ডে মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন পাথর। গত দুইবছর থেকে খনিটি লাভজনক রয়েছে এবং অব্যাহত থাকবে আশা করা যায়।

উল্লেখ্য, পাথর খনিতে দেশি-বিদেশি ২০০ কর্মকর্তা ও ৭৫০ শ্রমিক তিন শিফটে কাজ করছেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির প্রচেষ্টায় এবারও অর্জিত হয়েছে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। টানা তিনবছর ধরে লাভজনক অবস্থায় খনিটি। পাশাপাশি এলাকায় সামাজিক বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমও চালাচ্ছে জিটিসি।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর