শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ মে, ২০২১ ১৬:৩০
প্রিন্ট করুন printer

‘জয়পুরহাটের গণহত্যা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

‘জয়পুরহাটের গণহত্যা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
Google News

মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়পুরহাটে গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ‘জয়পুরহাটের গণহত্যা’ বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। বইটির মোড়ক উম্মোচন করেন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফুল ইসলাম। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধাসহ জেলার সূধীজন উপস্থিত ছিলেন। 

স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় বগুড়া জেলার মহকুমা ছিল জয়পুরহাট। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছরে, এর সুবর্ণজয়ন্তীতে জয়পুরহাটের গণহত্যা ও গণকবর নিয়ে ‘জয়পুরহাটের গণহত্যা’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে।  জেলার নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এ বই থেকে এমনটি আশা মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানের আলোচকদের। জয়পুরহাট ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সময় এ এলাকা দিয়ে ভারত যাবার পথে পাক হানাদার বাহিনী জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তাদেরকে গণকবর  দেয়। হত্যার শিকার জেলার স্থানীয় স্বাধীনতাকামি মানুষও।

বর্তমান জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলায় ৩৮টি গণকবর বা বধ্য ভূমির সন্ধান মিলেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি সদর উপজেলার পাগলা দেওয়ান বধ্যভুমি। দ্বিতীয় বধ্যভূমি হলো একই উপজেলার কড়ই কাদিপুর। কড়ই কাদিপুর গ্রামে পাক হানাদার বাহিনী হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসীকে হত্যা করে। যুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচাতে নারী পুরুষ জয়পুরহাট হয়ে ভারত যাবার পথে তারা ভারত সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন স্থানে হত্যাকান্ডের শিকার হন। তাদের মধ্যে অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ। 

যুদ্ধের সময় এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীর জবানীতে ‘জয়পুরহাটের গণহত্যা’ বইয়ে উঠে এসেছে নির্মম এসব হত্যাকান্ডের ঘটনা। জেলায় ৩৮টি বধ্যভূমি আবিস্কৃত হয়। 

বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় গবেষক ও জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আমিনুল হক বাবুল, প্রবীণ আইনজীবী মোমিন আহম্মেদ চৌধুরী। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর