১৩ অক্টোবর, ২০২১ ২২:৩২

আর কারও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা যাবে না : বিএনপি নেতাদের হানিফ

তাদের (বিএনপির) অনেকেই আমাদের অনেক নেতার আশ্রয়ে আছেন। সেই দিন শেষ হয়ে আসছে।

অনলাইন ডেস্ক

আর কারও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা যাবে না : বিএনপি নেতাদের হানিফ

মাহবুব উল আলম হানিফ

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‌‘বিএনপির নেতাদের স্বপ্ন ক্ষমতায় যাওয়া। তারা স্বপ্ন দেখেন, অপকর্ম করে পার পেয়ে যাবেন। তাদের (বিএনপি) অনেকেই আমাদের অনেক নেতার আশ্রয়ে আছেন। সেই দিন শেষ হয়ে আসছে। আর কারও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা যাবে না।’

আজ বুধবার কুষ্টিয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত আফাজ উদ্দিন আহমেদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা-তারেকের বিচার হচ্ছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘দেশের প্রত্যেকটা অপকর্মের বিচার করা হবে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে মানুষ হত্যা করেছে, পাশবিক নির্যাতন করেছে। এসব ঘটনায় কেউ রেহাই পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলেন, মানবাধিকারের কথা বলেন। উনাকে আমার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়- ক্ষমতায় থাকতে কোথায় ছিল আপনাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার? তখন আপনার নেতা খালেদা-তারেক হাওয়া ভবনে বসে সারাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে ছিল।’

হানিফ আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছিলো। অনেককে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলো। যুবলীগ নেতাদের হাত-পা কেটে দিয়েছিলো। তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছিলো। মির্জা ফখরুলরা এসব ভুলে গেলেও বাংলার জনগণ এসব ভুলে যায়নি। এ কারণে বিএনপি আজ আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত।’

বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সহনশীলতার রাজনীতি করি। সবাইকে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেতা। বঙ্গবন্ধু কন্যা মমতাময়ী মায়ের মতো দেশকে ভালোবাসেন। গত দুই বছর ধরে করোনা মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো ধনী দেশ হিমশিম খেয়েছে। বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও প্রায় ৪ লাখ মানুষ মারা গেছে। অথচ সীমিত সম্পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন।’

হানিফ বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে মানুষের মজুরি ছিল ১০০ টাকা। চাল কেনার পর সবজি কেনার টাকা থাকত না। শেখ হাসিনার সময়ে আজ ন্যূনতম মজুরি ৫০০ টাকা। ২-৩ কেজি চাল কেনার পর তেল, মাছ, মাংস কেনার টাকা থাকে। বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ বিদ্যুৎ আছে। শতভাগ বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে। আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আছে। অথচ খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকত না। কখন আসে কখন যায় সেটাই ছিল প্রশ্ন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ৩১৫০ মেগাওয়াট থেকে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে।’

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনা গ্রাম বাংলার অসহায় মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। দুঃস্থ, বিধবাভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। মানুষের জন্য ৪০ ক্যাটাগরির সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। কেউ যাতে খাদ্যের অভাবে মারা না যায় সেটিও নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নে রোলমডেলে পরিণত করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রমাণ করেছেন কমিটমেন্ট থাকলে সীমিত সম্পদ নিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়।’

হানিফ বলেন, ‘আজ দেশে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমানবিক প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৪ লেন সড়ক হচ্ছে, স্কুল, কলেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্ত দেশের এ উন্নয়ন খালেদা-তারেকের চোখে পড়ে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন হচ্ছে, আরও হবে। সারা কুষ্টিয়ায় আমরা উন্নয়ন করতে চাই। কুষ্টিয়াকে আমরা উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত করতে চাই।’
 
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর