৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৭:২৪

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি

বগুড়া সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কা করছে নদী পাড়ের মানুষ। পানি বাড়তে বাড়তে বিপৎসীমার মাত্র ১ মিটার নীচে বইছে যমুনার পানি। পানি বৃদ্ধির সংবাদে যমুনা পাড়ের বাসিন্দা ও চাষিদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পানি বৃদ্ধির গতি দেখে আরো দুদিন পর বলা যাবে বন্যা হবে কি না। 

সারিয়াকান্দি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার হতে এ উপজেলার যমুনা এবং বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৩০ আগস্ট যমুনা নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ১৩.৫২ মিটার। যা গত কয়েকদিনে বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার  সকাল ৯ টায় হয়েছে ১৫.৭১ মিটার। এতে গত ১১ দিনে যমুনা নদীর পানি ২ মিটার ১৯ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার বাঙালি নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১২.৬০ মিটার। যা গত কয়েকদিনে বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকালে হয়েছে ১৪.৫০ মিটার। ফলে গত ১১ দিনে বাঙালি নদীর পানি ২ মিটার ৯০ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১.০১ মিটার এবং বাঙালি নদীর পানি ১.৩৫ মিটার নীচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাসকিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরেই সারিয়াকান্দির নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যমুনার পানি ১৬ মিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। তবে আগামী ২ দিন পর জানা যাবে এবারে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে কিনা।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, যেহেতু উজানে অতিবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। তাই পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে বেশ কিছু ফসলহানি হবার সম্ভাবনা আছে। এগুলোর মধ্যে হাইব্রিড জাতের মরিচ ও আমন ধান অন্যতম। তবে পানি নেমে গেলে পলিমাটিতে স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান রোপণ শুরু করবেন চাষীরা।

পানি বৃদ্ধিতে দুঃচিন্তায় রয়েছে উপজেলার যমুনা পাড়ের হাইব্রিড মরিচ চাষীরা। তারা সবেমাত্র জমিতে হাইব্রিড মরিচ রোপন করেছেন। তাদের মরিচের গাছগুলো সবেমাত্র বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। এর আগে গত জুন-জুলাই মাসে বন্যাকবলিত হয়ে উপজেলার ৭ ইউপির ৭৭ গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় পাটসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষিরা আবারো জমিতে পাট, আমনধান, আউশধান, গাইঞ্জা ধানের বীজতলাসহ নানা ধরনের ফসল জমিতে আবাদ করেছেন। পুনরায় পানি বৃদ্ধিতে জমির ফসলহানি হবার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। 

সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউপির সুজাতপুর চরের হাইব্রিড মরিচ চাষী কামাল সরকার বলেন, প্রতিবছর প্রায় আট বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেন। গত কয়েকদিন আগে এক বিঘা জমিত হাইব্রিড মরিচ চাষ করা হয়েছে। চাষের পর চারাগুলো লেগে উঠেছে। এর মধ্যে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে বন্যায় মরিচের ক্ষেত নষ্ট হবে।

সারিয়াকান্দি কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ বছর উপজেলায় স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর। যার মাত্র ৬০০ হেক্টর অর্জন হয়েছে। হাইব্রিড মরিচের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০০ হেক্টর। যার ১৬০ হেক্টর অর্জন হয়েছে।

এ বছরের গত ১৭ জুন শুক্রবার বিকাল ৬ টায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। এরপর পানি বেড়ে গত ২১ জুন মঙ্গলবার যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার সর্বোচ্চ ৬৪ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছিল। বন্যায় ২ হাজার ৪৬৯ হেক্টর কৃষিজমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। এর মধ্যে পাট ২ হাজার হেক্টর, আউশ ধান ৪৫০ হেক্টর, ভুট্টা ৪ হেক্টর এবং সবজি ১৫ হেক্টর ছিল।

বিডি প্রতিদিন/এএ

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর