শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৯ ২২:৫৪

আমাদের ব্যবহার যেন হয় সুন্দর

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

আমাদের ব্যবহার যেন হয় সুন্দর

ব্যবহারে বংশের পরিচয় বলে আমরা জানি। একটা সময় ছিল, যখন মুসলমানের পরিচয় জানা যেত ব্যবহার দ্বারা। কথাবার্তা দ্বারা। আচার-আচরণ দ্বারা। ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠত ইমানদারের চারিত্রিক মাধুর্য দ্বারা। আর এখন কেন যেন আমাদের ব্যবহার, লেনদেন ও আচার-আচরণ সবকিছু দিন দিন নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। আল কোরআনে মুসলমানের আচার-ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত তার বিবরণ এসেছে, ‘আর তোমরা সবাই আল্লাহর বন্দনা কর। তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। আত্মীয়, ইয়াতিম ও মিসকিনদের সঙ্গে সদাচরণ কর। আত্মীয়, প্রতিবেশী, নিকটবর্তীজন, পার্শ্ববর্তী লোকজন, সহচর, মুসাফির (ভ্রমণকারী) এবং তোমার অধীন দাস-দাসীসহ সবার প্রতি ইহসান ও ভালো ব্যবহার কর। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না, যে অহংকারী ও গর্বকারী।’ সূরা আন নিসা, আয়াত ৩৬। এ আয়াত দ্বারা বোঝা গেল, আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত যত লোকের সঙ্গে ওঠা-বসা করি, কথা বলি, লেনদেন করি সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। যদি কোনো অভাবী মানুষ কিছু চায় আর আমরা তাকে তা দিতে না পারি তবু তার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। এ বিষয়ে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যদি তাদের থেকে (অভাবী, আত্মীয়স্বজন, মিসকিন ও মুসাফির) তোমাকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হয় এ জন্য যে, এখন তুমি আল্লাহর প্রত্যাশিত রহমতের সন্ধান করে ফিরছ (অর্থাৎ তোমার সামর্থ্য নেই), তাহলে তাদের সঙ্গে মধুর ও নরম ব্যবহার কর।’ সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৮। মূর্খ ব্যক্তিরা যদি ঝগড়া করতে চায়, খারাপ আচরণ করতে চায় তাহলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। ভালো আচরণ করতে হবে। তাহলে আল্লাহ খুশি হবেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘রহমানের (আসল) বান্দা তারাই যারা পৃথিবীর বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং মূর্খরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে থাকলে বলে দেয়, তোমাদের সালাম। তারা নিজেদের রবের সামনে সিজদায় অবনত  হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত কাটিয়ে দেয়।’ সূরা আল ফুরকান, আয়াত ৬৩-৬৪। হাদিসেও নম্র আচরণের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ স্বয়ং নম্র, তাই তিনি নম্রতাই ভালোবাসেন। তিনি কঠোরতার জন্য যা দান করেন না তা নম্রতার জন্য দান করেন। নম্রতা ছাড়া অন্য কিছুতেই তা দান করেন না।’ মুসলিম।

লেখক :  খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ নাখালপাড়া, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য