শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মে, ২০১৯ ২২:৪৬

টাইগারদের সিরিজ জয়

বিশ্বকাপের সেরা প্রস্তুতি

টাইগারদের সিরিজ জয়

অবশেষে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। আগের ছয়টি টুর্নামেন্টে ফাইনালে উঠেও কূলে এসে তরী ডোবায় টাইগাররা। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে টাইগাররা পুরো ম্যাচে অপরাজিত থাকার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। একসময়কার বিশ্বক্রিকেটের দাপুটে দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ফাইনালে জয় এসেছে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে। শ্বাসরুদ্ধকর সে ম্যাচের টার্গেট দেখে বাংলাদেশের জয় অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হলেও টাইগারদের দৃঢ় মনোভাবে পূরণ হয়েছে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এর আগে একে একে ছয়বার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি নিজেদের ভুলে। স্নায়ুর চাপ জয় করতে না পারার কারণে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও বার বার ভাগ্যবিড়ম্বনায় পড়েছেন লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে এবার টাইগাররা উত্তেজনা, আশঙ্কা, টেনশনকে ছুড়ে ফেলে ঠা-া মাথায় শিরোপা জিতেছে সত্যিকারের বীরের মতো। ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ২১ বছর আগে ঠিক এই দিনেই কেনিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ১৭ মেতেই প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা পেল তারা। শুক্রবার বৃষ্টি যখন শুরু হয় তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৫০ ওভারের ম্যাচ কমে আসে ২৪ ওভারে। বাকি ৩.৫ ওভারে অর্থাৎ ২৩ বলে মাত্র ২১ রান করে উইন্ডিজ। সব মিলে ২৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল ১৫২ রান। কিন্তু যেহেতু প্রথম ২০.১ ওভারে ক্যারিবীয়রা ৫০ ওভার খেলার টার্গেট নিয়ে ব্যাটিং করেছে এবং কোনো উইকেটও হারায়নি তাই বৃষ্টি আইনে তাদের মোট স্কোরের সঙ্গে বাড়তি ৫৮ রান যোগ হয়। টাইগারদের টার্গেট দাঁড়ায় ২১০ রান। সোজা কথায় জিততে হলে ২৪ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ৫৮ রান বেশি। চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন টাইগাররা সে জয় ছিনিয়ে এনেছে হেসে খেলে ৫ উইকেটের ব্যবধানে। ৭ বল বাকি থাকতেই আসে ইতিহাসের প্রথম টুর্নামেন্ট জয়। ইনজুরির কারণে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান খেলতে না পারলেও মোসাদ্দেক হোসেন ও সৌম্য সরকারের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে এসেছে দুরন্ত বিজয়। দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জেতার জন্য টাইগারদের অভিনন্দন। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে তারা যে হার না মানা সাফল্য দেখিয়েছেন তা বিশ্বকাপের সেরা প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য।


আপনার মন্তব্য