শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৯

হেদায়েতময় শান্তির আলোকবর্তিকা

মুহাম্মদ রাশেদ হায়দার মহিউদ্দীন

হেদায়েতময় শান্তির আলোকবর্তিকা

মরু আরবের শুষ্ক প্রান্তরে ইসলামের যে বীজ আল্লাহর হাবিব বপন করেছিলেন তা আজ ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে ধরণির প্রান্তে প্রান্তে সবাইকে করছে মুগ্ধ-বিমুগ্ধ-বিমোহিত। যাঁর পরশে সমগ্র সৃষ্টি হচ্ছে সম্মোহিত, সমাদৃত ও সম্মানিত। ইসলামের এই যুগান্তকারী বিস্তৃতি এবং ব্যাপকতার নেপথ্যে যাঁরা ত্যাগ, শ্রম ও কোরবানির মাধ্যমে সুবিশাল অবদান রাখার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের আলোয় উদ্ভাসিত তাঁদের সবার যে শক্তি ছিল তা হলো ইমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে তাওহিদকে বুকে ধারণ করে ইশকে মুস্তফার অনুশীলন, নবীকে পরিপূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ। প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ ভালোবাসাময় আকুলতায় তাঁরা হয়েছেন সৃষ্টির দিশারি, পথহারাদের পাঞ্জেরি। তাদের নুরানি কর্ণকুহরে যেন প্রতিনিয়ত ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয় নিপীড়িতদের আহাজারি, বঞ্চিতদের রোনাজারি। একজন মানুষকে যে সুমহান উদ্দেশ্য নিয়ে আল্লাহ তাঁর প্রিয়তম সৃষ্টিরূপে দুনিয়ায় পাঠান মানুষ যখন তা ভুলে যায় তখন আল্লাহর প্রতিনিধি হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে সলফে সালেহিনরা তথা যুগের যাঁরা সংস্কারক থাকেন তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন সেসব পথভোলা মানুষকে আল্লাহর পথে এনে জান্নাতের সুঘ্রাণ দেওয়ার। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া একবিংশ শতাব্দীর মাহেন্দ্রক্ষণে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার সময়ে নবীপ্রেমের বিন্যাসে এমন একজন কালজয়ী রাহবারকে আমরা পেয়েছি যিনি নূরে মুস্তফার সংস্পর্শে মানুষকে এমনভাবে পরিচালিত করছেন যে পথের শেষে অনাবিল প্রশান্তি, দূর হয় জীবনের ভ্রান্তি, আসে না ইবাদতে ক্লান্তি, কলবে অনুভূত হয় জান্নাতি শান্তি, ইমান ও আখলাকে পাই হেদায়েতময় তৃপ্তি, জীবনে জ্বলে ওঠে নবীপ্রেমের দীপ্তি, দোজাহানে হয় বেহেশতি প্রশান্তময় প্রাপ্তি। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, যে ব্যক্তি এ নূর গ্রহণ করবেন তার তিনটি পরিবর্তন জীবনে আসবে- ১. সে দুনিয়া থেকে হালকা হয়ে যাবে আখেরাতের দিকে ধাবিত হবে ২. সব সময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকবে ৩. ইসলামের জন্য তার বক্ষ প্রসারিত হয়ে যাবে। এ নূরের প্রভাবে মানুষ আশেকে রসুলে পরিণত হয়। যার হৃদয়ে নবীর প্রেম থাকে তার জীবন তো সুন্নতের অলঙ্কারে সুসজ্জিত থাকবে। তার চলাফেরায় চিন্তাধারায় কথাবার্তায় ইসলামের জ্যোতি, সুন্নতের প্রীতি, আল্লাহর ভীতি হবে দৃশ্যমান, নফসের প্রভাব হবে ম্রিয়মাণ, ইনসানিয়াত হবে বেগবান। সর্বোপরি খুঁজে পাবে ইহসান তথা আল্লাহর সন্ধান, মারিফাতের সুঘ্রাণ। এ মহান তরিকতের আরেকটি মহামূল্যবান নিয়ামত হলো ফয়েজে কোরআন তথা কোরআনের নূর। যেথায় মেলে হাকিকতের সুধা শরাফত, যার ঝলকানিতে কলবে ওঠে আল্লাহ আল্লাহ সুরের মহাঝঙ্কার, হৃদয়ে সাজে নবীপ্রেমের অলঙ্কার ওই ব্যক্তিকে নিয়েই যেন জাতে পাকের অহংকার।


আপনার মন্তব্য