শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৫

ইসলামী বিধান থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত

মুহাম্মদ আশরাফ আলী

ইসলামী বিধান থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত

ইসলাম সর্বশক্তিমান আল্লাহ-প্রদত্ত সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনবিধান। এ জীবনবিধান নাজিল হয়েছে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য চিরকল্যাণকর জীবনবিধান। কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী আসবেন না এবং আর কোনো আসমানি জীবনবিধানও নাজিল হবে না। যে কারণে আল্লাহ-প্রদত্ত এই চূড়ান্ত জীবনবিধান চলমান ও কার্যকর থাকবে। এ জীবনবিধান বা দীন এবং কোরআনকে চলমান ও কার্যকর রাখার দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি এই জিকির (কোরআন) নাজিল করেছি এবং নিশ্চয়ই আমি তা রক্ষা করব।’ সূরা হিজর, আয়াত ৯। ইসলাম সংরক্ষণের পূর্বশর্ত হলো, কোরআন ও হাদিসের সংরক্ষণ এবং সেগুলোর প্রায়োগিক কর্মগত বাস্তবায়ন। ইহজগৎ থেকে বিদায়লগ্নে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের জন্য দুটো বিষয় রেখে যাচ্ছি। এ দুটো মজবুতভাবে ধরে রাখলে তোমরা বিভ্রান্ত হবে না, পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো কোরআন ও সুন্নাহ।’ বস্তুত দুনিয়াবাসী সব মানুষের কল্যাণের জন্য ইসলামের প্রচার-প্রসার অত্যাবশ্যক। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘একটি আয়াত হলেও আমার পক্ষ থেকে অন্যের কাছে পৌঁছে দাও।’ মিশকাত। আল্লাহর দেওয়া এ জীবন-বিধানের সংরক্ষণ ও প্রচারে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এবং সাহাবা, তাবেয়ি, তাবেতাবেয়িরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধ্যমতো অবদান রেখে গেছেন। এ ক্ষেত্রে ওলামার ভূমিকাও প্রাতঃস্মরণীয়। মানবসমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওলামায়ে কিরাম। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত। মানবতার কল্যাণে ওলামারা নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেন। তাদের সংস্পর্শে মানুষ ধন্য হয়, কল্যাণ লাভ করে। অভিশপ্ত ও বঞ্চিত যারা তারা কোনো ওলি-আউলিয়ার সংস্পর্শ পায় না। আল্লাহ বলেন, ‘পৃথিবীতে তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সাহায্যকারীও নেই।’ সূরা তওবা, আয়াত ৭৪। ইসলাম প্রচারে আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একদল হোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কর্মের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কর্মে নিষেধ করবে, তারাই সফলকাম।’ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৪। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কথায় কে উত্তম ওই ব্যক্তি অপেক্ষা যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করে, সৎ কর্ম করে এবং বলে আমি তো মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।’ সূরা হা-মিম আস-সাজদা, আয়াত ৩৩। কোরআনের আয়াতের আলোকে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা ও সৎ কর্ম করা মুমিনদের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। আল্লাহ আমাদের তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য