শিরোনাম
রবিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

তুরাগতীরের বিশ্ব ইজতেমা

মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন

শুক্রবার টঙ্গীর তুরাগতীরে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের একাংশের তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমা। পরের শুক্রবার শুরু হবে অন্য অংশের। এতে যোগ দেওয়ার জন্য দেশবিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি সমবেত হচ্ছে। তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা সামনে রেখে দেশবিদেশ থেকে প্রচ- শীত উপেক্ষা করে ছুটে আসছে ইসলামের দাওয়াতি কাফেলার সঙ্গীরা। তাবলিগ জামাত তাদের দীনি দায়িত্ব পালনে সত্যিকার অর্থেই অতুলনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দুনিয়াদারি লাভ-লোকসান ও আত্মপ্রচার উপেক্ষা করে তারা মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরছে মানুষের সামনে। বিপথগামী মানুষকে সুপথে আনার জন্য তারা নিবেদিতপ্রাণ মনোভাব নিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সুরা হা-মিম-আস সাজদার ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘কথায় কে উত্তম ওই ব্যক্তি অপেক্ষা যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করে এবং বলে আমি তো অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত’। এ আয়াতে যারা আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। তাদের প্রশংসা করা হয়েছে এজন্য, তারা শুধু আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানই করে না নিজেরাও নেক আমল করে এবং নিজেদের মুসলমানের মধ্যে একজন ভাবে। তাবলিগ জামাত মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। সুরা আলে ইমরানের ১০৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একদল হোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে; এরাই সফলকাম।’ এ আয়াতে উম্মতদের মধ্যে একটি জামাত থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যে জামাত ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করবে। যারা মানুষকে সৎ পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করবে। অসৎ কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য মানুষকে সাবধান করবে। মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ জামাত শুরু থেকে এ দায়িত্ব পালন করছে। তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার উদ্দেশ্য আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত করা। আল্লাহর হুকুম আত্মস্থ করা, আল্লাহ মুমিনদের যে পথে যেতে মানা করেছেন সে পথ থেকে দূরে থাকা।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি গর্হিত কাজ হতে দেখে তবে তা হাত তথা শক্তি দিয়ে পরিবর্তন করবে। যদি না পারে তবে মুখ দিয়ে বলে তা পরিবর্তন করবে। যদি তা-ও না পারে তবে অন্তর দিয়ে অপছন্দ করবে। আর এটা হলো দুর্বল ইমানের পরিচায়ক।’ মুসলিম, মিশকাত। আল কোরআনের আরও কিছু আয়াতে মুমিনদের দাওয়াতি কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজেও উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা যেন যারা উপস্থিত নেই তাদের কাছে তাঁর বাণী পৌঁছে দেয়। বস্তুত এ আহ্বানের মাধ্যমে দাওয়াতি কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

                লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর