চব্বিশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, জুলাই সনদ, সংস্কার, রাষ্ট্র মেরামত-শব্দগুলো এখন খুবই পরিচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে শব্দগুলো বহুচর্চিত হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের দুই মাসেও শব্দগুলো দেশবাসীর কানে বারবার ধ্বনিত- প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদের ভিতরে ও বাইরে এসব নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক চলছে। বাদপ্রতিবাদ, ওয়াকআউট হয়েছে। গুম, মানবাধিকার ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে চলছে কঠিন রাজনীতি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিরোধী দল না বুঝে অধ্যাদেশ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছে। ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট, মানবাধিকার ও গুম নিয়ে আরও ভালো আইন করা হবে। দু-একটি ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সব কর্মকাণ্ড বৈধতা পাচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দল বলছে এর উল্টোটা। তারা বলছে, ‘সরকার জুলাই চেতনার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কিন্তু জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা পার পাবে না। গণভোটের রায়ের মাধ্যমে পাওয়া গণরায়ে এই জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন হবে। তার জন্য প্রয়োজনে আবারও জীবন দেব। দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এ আন্দোলন তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।’ তবে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা, বক্তব্য যা-ই থাক না কেন, পানি বেশ নাড়াচাড়া হচ্ছে। কিছু পানি ঘোলাও হচ্ছে। এ সুযোগে ডিপ স্টেটের কুচক্রীরা আবার গর্ত থেকে মাথা বের করছে। গলার রগ মোটা করে চড়া গলায় কথা বলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সুশীল সভায় বিশিষ্টজনের আসনও অলংকৃত করেছে। সেই সঙ্গে অসামাজিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কুতুবরা আবার ফতোয়া দিতে শুরু করেছেন। এসবের উত্তরে পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘যে জুলাই সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’ তাঁর এ বক্তব্যের পরও জল ঘোলার খেলাধুলা থামবে না। এ খেলা শুধু জুলাই সনদের নয়, এ খেলা অন্য খেলা। দেশি খেলোয়াড়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, রাশিয়া, চীন, তুরস্কও এখন আমাদের নিয়ে সুবিধামতো খেলতে চায়। সুতরাং নেতৃত্ব এবং জাতিকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।
বর্তমান বিশ্বরাজনীতি আধিপত্য ও জ্বালানি নিয়ে। সব দেশের ব্যস্ততা এখন যার যার অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা নিয়ে। যে যেভাবে পারছে জ্বালানি মজুত ও আমদানি সুরক্ষায় কাজ করছে। আমাদের জ্বালানিসংকট দিনদিন তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না। অপরিশোধিত তেলের সংকটে দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে গেছে। পেট্রোলপাম্পগুলোতে রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই যানবাহনের ভিড় লেগে আছে। তেলের জন্য রাস্তা অবরোধ, মারামারি, হানাহানিও ঘটছে। আবার একশ্রেণির মানুষ লাখ লাখ লিটার তেল মজুতও করছে। প্রশাসনের অভিযানে প্রতিদিনই অবৈধভাবে মজুত করা তেল উদ্ধার হচ্ছে। জ্বালানিসংকট সর্বস্তরের মানুষকে স্পর্শ করেছে। ইতোমধ্যে অনেক মানুষ বেকার হয়ে গেছে। দিনদিন কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কৃষক সেচের জন্য তেল পাচ্ছে না। বিদ্যুতের লোডশেডিংও বাড়ছে। জ্বালানির অভাবে সৃষ্ট সংকটের তালিকা তৈরি করলে অনেক দীর্ঘ হবে। দেশি সমস্যার পাশাপাশি আমাদের প্রবাসীদের সমস্যাও করুণ। বিশেষ করে যারা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত তারা অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে সমস্যা দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকুক, সমাধানের পথ আমাদের হাতে নেই। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকার এক কথায় বলা যায় দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সব ক্ষেত্রে বিধ্বস্ত একটি পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এ অবস্থায় সবার উচিত সরকারকে সহযোগিতা করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত শিশু সরকার যদি নানাভাবে চাপে থাকে, তাহলে পলাতক ও ডিপ স্টেটের কুচক্রীরা সুযোগ নেবে।
বিশ্বপরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, আমরা আছি আমাদের জুলাই সনদ নিয়ে! প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের পর দেখা যাক জুলাই সনদের রাজনীতি কোন দিকে যায়। পয়লা বৈশাখ টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের ফসল হিসেবে যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, বিএনপি তাতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে জুলাই সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, সেই সনদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন এবং প্রতিটি শর্ত বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। ইনশাল্লাহ এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না। বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। বিএনপি সবার আগে জুলাই সনদে সই করেছে। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা রাষ্ট্রকাঠামোর যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, তাতে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও সুশাসনের কথা বলা হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করব।’ সেই সঙ্গে তিনি স্বৈরাচারের ভূত কাদের ওপর আবার ধীরে ধীরে আসর করছে, কারা দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের এবং তাদের সমর্থক কিছু সুশীল ব্যক্তির বক্তৃতা-বিবৃতির পর তিনি প্রথমবারের মতো দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নিয়মানুযায়ী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল। নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। আর ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১১০টি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে সংসদ। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে অনুমোদন করা হয়। অধ্যাদেশগুলো যাচাইবাছাই করতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্য সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল সংসদ। তবে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটির সব সুপারিশ হুবহু অনুসরণ করা হয়নি বলে বিরোধী দল অভিযোগ করেছে। যেমন কমিটির সুপারিশ ছিল ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’ হুবহু অনুমোদনের। তবে ১০ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার এ-সংক্রান্ত বিলে সংশোধন আনা হলে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়। এ ছাড়া গুম অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে না আনায় সরকারি দলের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাসভঙ্গ’-এর অভিযোগ এনে সেদিন ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধী দল ওয়াকআউট করতেই পারে। কিন্তু যেসব ইস্যুতে তারা ওয়াকআউট করেছে, সেখানে কিছু তথ্য সঠিক ছিল না। বলা যায়, তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ওপর দোষ চাপিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৭টি হুবহু বিল আকারে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধনসহ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজত করা হয়েছে। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক পরবর্তী সময়ে অধিকতর যাচাইবাছাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনেও উল্লেখ আছে। এদিকে ১৩ এপ্রিল ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইডিবি) মিলনায়তনে ১১-দলীয় জোটের সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও জীবন দেব।’ একই অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সংস্কার পরিষদ না করার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে।’
বিশ্বপরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনই বলা মুশকিল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফা শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে। আরেক দফা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৫ এপ্রিল এবিসি নিউজের সংবাদদাতা জোনাথন কার্ল এমনটি বলেছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে ইরান। এ সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। চলতি সপ্তাহে আরও এক দফা আলোচনার কথা চলছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২১ এপ্রিল শেষ হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে শিক্ষা হচ্ছে যে জ্বালানি তেল পরিবহনে শুধু হরমুজ প্রণালির ওপর এতটা নির্ভর করে পৃথিবী চলতে পারে না। অবশ্য এর আগেই হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি দেশে পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছে। ওইসব পাইপলাইন দিয়ে কিছু দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি (ঝঃৎধরঃ ড়ভ ঐড়ৎসুঁ) এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাইপলাইন হলো-সৌদি আরব-ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন (পেট্রোলাইন) : এ পাইপলাইন পূর্বাঞ্চল আবকাইক থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু পর্যন্ত তেল পরিবহন করে। এর সক্ষমতা দিনে প্রায় ৭ মিলিয়ন ব্যারেল এবং বর্তমান সংকটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অউঈঙচ পাইপলাইন : প্রায় ২৩৬ মাইল দীর্ঘ এ পাইপলাইন আবুধাবির হাবসান তেলক্ষেত্র থেকে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পৌঁছায়। এর সক্ষমতা দিনে প্রায় ১.৮ মিলিয়ন ব্যারেল। ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইন (কিরকুক-সেইহান) : এটি ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার একটি বিকল্প পথ। এ পাইপলাইনগুলো শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতভাবে এখন অস্ত্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে হরমুজনির্ভরতা কমাতে এ অবকাঠামো তৈরি করেছে, যা বর্তমান সংকটে তাদের তুলনামূলক সুবিধা দিয়েছে। বিপরীতে ইরাক বা কুয়েতের মতো দেশগুলো এখনো বড় বিকল্প রুটের অভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে অঞ্চলভিত্তিক শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এসব পাইপলাইন থেকে আমরা কীভাবে তেল পেতে পারি, সরকারের এখন সেদিকে জোর দেওয়া উচিত। ইতোমধ্যে এসব পাইপলাইন ব্যবহার করে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশ তেল পেয়েছে বলে জানা গেছে।
দেশের মানুষ শান্তি চায়। তেল সংকটের উত্তরণ চায়। দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকবে সেটাও দেশবাসী চায়। সরকার সবকিছু সহনশীলভাবে মোকাবিলা করবে তা-ও দেশবাসীর প্রত্যাশা। বিপুলসংখ্যক আসন নিয়ে সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের প্রতি দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক। তাঁর সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু কাজ শুরু করেছে। মাত্র দুই দিন আগে কৃষক সুরক্ষায় বিতরণ করা হয়েছে কৃষক কার্ড। পাহাড়সমান সমস্যার দেশে কোনো সরকারের পক্ষেই রাতারাতি জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। এটাই বাস্তবতা। তবে দেশবাসী আর কোনো হানাহানি চায় না। ক্ষমতার লোভে আবার রক্ত ঝরুক তা-ও চায় না। দেশবাসীর ন্যূনতম চাহিদা একটাই-‘আমরা শান্তি চাই’। সামাজিক স্থিতিশীলতা, মানবিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সুদৃঢ় ভিত্তির লক্ষ্যে গণতন্ত্রের অব্যাহত অগ্রযাত্রা দেখতে চাই।
♦ লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন