শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ নভেম্বর, ২০১৫ ২১:১৬

ইন্টারভিউ : আবু সাইয়িদ

গণঅর্থায়নে ছবি নতুন কোনো ধারণা নয়

শোবিজ প্রতিবেদক

গণঅর্থায়নে ছবি নতুন কোনো ধারণা নয়
গণঅর্থায়ন বা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ৬ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহেরও উদাহরণ রয়েছে। এই পদ্ধতিতে জনসাধারণ সরাসরি ছবি নির্মাণে অর্থ জোগান দিতে পারে। নিয়ম হলো দর্শকের জন্য আর্থিক অনুদানের পরিমাণ হবে ১০০, এক হাজার এবং ১০ হাজার টাকা।

গণঅর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণ বিশ্বে নতুন কিছু নয়। এ দেশে প্রথমবারের মতো এই ধারণা নিয়ে এগিয়ে এলেন নির্মাতা আবু সাইয়িদ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হলো গণঅর্থায়নের ছবি ‘সংযোগ’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা। এ বিষয়ে আজ তার ইন্টারভিউ-

‘গণঅর্থায়নে ছবি’ ধারণাটি সম্পর্কে বলুন।

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে গণঅর্থায়নে ছবি নির্মাণ উদ্যোগ নতুন হলেও এটি কোনো নতুন ধারণা নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই এ পদ্ধতিতে ছবি নির্মাণ সাফল্যের সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে। পার্শ^বর্তী দেশ ভারতেও হচ্ছে। এই গণঅর্থায়ন বা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ৬ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহেরও উদাহরণ রয়েছে। এই পদ্ধতিতে জনসাধারণ সরাসরি ছবি নির্মাণে অর্থ জোগান দিতে পারে। নিয়ম হলো দর্শকের জন্য আর্থিক অনুদানের পরিমাণ হবে ১০০, এক হাজার এবং ১০ হাজার টাকা। পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ এক, তিন এবং পাঁচ লাখ টাকা। দুই থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান বা সংগ্রহ করলে একজন ব্যক্তি যথাক্রমে সহযোগী, সহযোগী প্রযোজক ও সহপ্রযোজক হিসেবে বিবেচিত হবেন। মোটকথা ১০ হাজারের অধিক জনের অর্থ সহযোগিতায় নির্মাণ হবে ক্রাউড ফান্ডের ছবি।

ছবি থেকে আয়কৃত অর্থ বণ্টন হবে কীভাবে?

ছবি নির্মাণের পর সিনেমা হল, টেলিভিশন ও ডিভিডি বিক্রয়ের মাধ্যমে যে আয় হবে তা দিয়ে আবার নতুন ছবি নির্মাণ করা হবে। এভাবেই এই টাকা বিনিয়োগ ও পুনঃবিনিয়োগ হতে থাকবে।

ছবি নির্মাণে অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া কী?

ব্যাংক বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আগ্রহীরা অনুদান প্রদান করতে পারবেন। অনুদান প্রেরণের পর অনুদান দাতার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং অনুদানের পরিমাণ [email protected]  এই ই-মেইলে পাঠাতে হবে। ছবি নির্মাণে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুদান দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। এ সম্পর্কে জানতে +৮৮০১৫৫৯০২৪১১২ এই মোবাইল নম্বর এবং www. facebook/amaderchobi.bd-এ যোগাযোগ করতে হবে।

বর্তমান সময়ে এ দেশের চলচ্চিত্র নানা কারণে দর্শকবিমুখ। এ কারণে এই ছবি নির্মাণে সাধারণ মানুষের সাড়া কতটা মিলবে?

আসলে এ দেশে ভালো ছবির দর্শকের অভাব নেই। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। বর্তমান সময়ের উদাহরণ হলো ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করার পর অভাবনীয় দর্শক সাড়া পাচ্ছি। প্রচুর মানুষ এতে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের অনেক মানুষ চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। সুযোগের অভাবে তাদের ইচ্ছা পূরণ হয় না। তাই এ উদ্যোগে জনসম্পৃক্ততার কোনো অভাব হবে না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে আমি একটি আস্থার অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এটি আমার দীর্ঘদিনের সাধনা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি। তাই আমার এই উদ্যোগ কখনো ব্যর্থ হবে না।

কবে নাগাদ এই ছবির নির্মাণ কাজ শুরু হবে?

আগামী ৬ অথবা ৭ নভেম্বর এ বিষয়ে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করব।


আপনার মন্তব্য