শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৭ ২২:৩৩

সেই শিশুশিল্পীরা এখন

সেই শিশুশিল্পীরা এখন

বিজ্ঞাপন, নাটক বা চলচ্চিত্রে এমন অনেক শিশুশিল্পী আছে যারা নিজস্ব অভিনয়গুণে দর্শকদের নিকট আলাদা করে পরিচিতি পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ বড় হয়েছেন আবার কেউ সবেমাত্র তাদের অভিনয়যাত্রা শুরু করেছেন। এসব শিশুশিল্পীর অনেকেই সদর্পে এখনো নিজস্ব অভিনয় প্রতিভা দেখিয়ে চলছে। শোবিজ অঙ্গনের সেইসব আলোচিত শিশুশিল্পীকে নিয়ে আজকের আয়োজন— পান্থ আফজাল

 

ছুটির ঘণ্টার মাস্টার সুমন

১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দর্শকের চোখ-ভেজানো এক ছবির নাম ‘ছুটির ঘণ্টা’। স্কুল-বাথরুমে আটকা পড়ে নির্মম মৃত্যুর শিকার হওয়া গল্পের সেই খোকন বা মাস্টার সুমনকে আজও ভুলতে পারেননি সিনেমাপ্রেমীরা। যখন ছবিটি মুক্তি পায় তখন সারা দেশে এই ছবিটি নিয়ে ভীষণ সাড়া পড়ে যায়। এই ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাস্টার সুমন যার অভিনয় ‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবির সবার অভিনয়কে ছাড়িয়ে যায়।

দীপু নাম্বার টুর শুভাশীষ

১৯৯৬ সালে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের গল্প অবলম্বনে নির্মিত মোরশেদুল ইসলাম পরিচালনা করেছিলেন ‘দীপু নাম্বার টু’। শিশুতোষ এই চলচ্চিত্রের দুষ্টু ছেলে তারেক চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল শুভাশীষ রায়। এই চলচ্চিত্রে মূলত ফুটে উঠেছে দীপু নামের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি ছেলের জীবনের চাওয়া-পাওয়া, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের এক অনুপম প্রদর্শনী। জানা যায়, উনিশ বছর পর শুভাশীষ আবার চলচ্চিত্রে আসছেন পরিচালক হিসেবে।

মায়া ও মমতার গল্প আর চটপটে অরিত্র

ইমেল হকের নির্মাণে অসাধারণ টেলিফিল্ম ‘মায়া ও মমতার গল্প’। মায়া একটি ছোট্ট মেয়ে, চাকরিজীবী মা-বাবা এই মেয়েকে রেখে যায় তাদের বাড়িওয়ালা মমতার কাছে। মায়া আর মমতার মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর মমত্ববোধ নিয়েই এই টেলিফিল্মটি। এই টেলিফিল্মে শিশুশিল্পী আরিয়া অরিত্রর অভিনয় সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে! মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই নাটক, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে করেছে দুর্দান্ত অভিনয়। গ্রামীণফোনের একটা বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে এই চটপটে পিচ্চিটার অভিনয়ে আবির্ভাব। এই পর্যন্ত করেছে ২৫টির মতো বিজ্ঞাপনচিত্র। এখন সে অনন্য মামুনের ‘বন্ধন’ ছবিতে কাজ করছে।

ঘেটু পুত্র কমলা মামুন

কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র কেন্দ্রীয় চরিত্র কমলা চরিত্রে অভিনয় করে মামুন মাত্র ১১ বছর বয়সেই জয় করে নিয়েছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আরও পুরস্কার। পুরো নাম হাসান ফেরদৌস মামুন খান। মামুন বিভিন্ন চলচ্চিত্র, নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছে।

বিকাল বেলার পাখি নমনী

 রোজার ঈদে দর্শকের হূদয় ছুঁয়ে গেছে আদনান আল রাজীবের ‘বিকাল বেলার পাখি’ নাটকটি। পরিবারের ছোট্ট মেয়েটা স্কুল থেকে ফিরেই দেখতে পায় বাসার আসবাবপত্রের সঙ্গে রংবেরঙের মাছের অ্যাকোয়ারিয়াম নিয়ে যাচ্ছে কিছু লোক। বই-খাতা ছুড়ে ফেলে মালামাল বহনকারীদের পেছনে কাঁদতে কাঁদতে ছুটতে শুরু করে মেয়েটি। নাটকের আবেগঘন দৃশ্যগুলোর অন্যতম শিশুশিল্পী নমনীর এই কান্না। কান্না দিয়েই আলাদা পরিচিতি পেয়েছে মেয়েটি। এ বয়সেই ৪৮টি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েছে সাফানা নমনী। অভিনয় করছে সম্প্রতি ‘পোড়ামন টু’ ছবিতে।

আমার বন্ধু রাশেদ-এর প্রাপ্তি

ডাকনাম প্রাপ্তি ,পুরো নাম চৌধুরী জাওয়াতা আফনান। স্কুলে পড়াকালীন সময়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ চলচ্চিত্রের জন্য চরিত্র নির্বাচনে স্কুলে আসেন। আফনান বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করছে।

গোল্ডেন এ প্লাস-এর অনিন্দ্য

চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু শাহেদ ইমনের ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ নাটকে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে অনিন্দ্য নামের এক কিশোরের অভিনয়। মা-বাবার প্রত্যাশার চাপে কীভাবে শিশুদের শৈশব বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে, তা দেখা যাবে গোল্ডেন এ প্লাস নাটকে। অনিন্দ্য এর আগে অভিনয় করেছে পরিচালক বিজনের ‘মাটির প্রজার দেশে’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে।

এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীর টিপটিপ

রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে এমিল চরিত্রের ‘টিপটিপ’ ট্রেনে চড়ে ঢাকায় রওনা দেয়। তার পকেটে মা ৫০০ টাকা দেয় খালাকে দেওয়ার জন্য; কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখে পকেটে টাকা নেই। চোরের পিছু নেয় এমিল। তবে বড় চোরকে ধরতে প্রয়োজন শক্তির। এ সময় বন্ধুদের নিয়ে আসে তৃপ্তি। তাদের নিয়েই গঠন করা হয় গোয়েন্দা দল। তারাই রহস্য উন্মোচনের জন্য নানারকম বুদ্ধিমত্তার প্রদর্শন শুরু করে। সব কিছুর মধ্যে এই গল্পে সবার মুগ্ধতা কাড়ে ‘টিপটিপ’।

দীঘি নামের সেই মেয়েটি

তারকা দম্পতি দোয়েল ও সুব্রত তনয়া দীঘি।  গ্রামীণফোনের ‘ময়নাপাখি’ বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমেই রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করে নিয়েছিল সেদিনের সেই ছোট্ট দীঘি। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে একের পর এক অভিনয় করেছে সিনেমাতে। এমনকি তার অনবদ্য অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেছে সে। এখন আর সেই ছোট্টটি নেই। এখন তিনি কৈশোর বয়স পেরিয়ে তারুণ্য ছুঁই ছুঁই করছে। সময় আর সুযোগ হলেই দেশসেরা নায়িকা হয়েই তিনি পর্দায় হাজির হবেন।

শিশুশিল্পী পূজা এখন নায়িকা

‘রিন ওয়াসিং’ পাউডারের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আলোচনায় আসে পূজা। ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবির মধ্য দিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম বড় পর্দায় আসে সে। ‘অগ্নি’ ছবিতে নায়িকা মাহিয়া মাহির ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিল। ‘পোড়ামন’-এর সিক্যুয়েল রায়হান রাফির ‘পোড়ামন ২’তে নায়িকা পূজা চেরি রায়। ছবিতে পূজার নায়ক সিয়াম।


আপনার মন্তব্য