Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৫

নির্বাচন আমি করছি না

চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে কাজের কোনো বিকল্প নেই

আলাউদ্দীন মাজিদ

নির্বাচন আমি করছি না

চলচ্চিত্র সমিতি হলো সেবামূলক সংগঠন। সমিতি দিয়ে তো শিল্পের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যায় না। শিল্পের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজের বিকল্প নেই। দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন ঢালিউডের শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খান। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে খবর প্রকাশিত হয়েছে শাকিব খান আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন। এ খবরকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে শাকিব বলেন, নির্বাচন করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার নেই। আমি তো দুই বার সমিতির সভাপতি ছিলাম। নিজের দায়িত্ব পালনকালে যতটুকু সম্ভব এই সমিতি ও শিল্পীদের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। প্রথমবার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সমিতির অফিসটিকে ভগ্নদশা থেকে সুসজ্জিত করেছি। পরেরবার সভাপতি হয়ে সমিতির বাগান তৈরি করেছি। পাশাপাশি সমিতির জন্য ফান্ড গঠন এবং অসচ্ছল ও অসুস্থ শিল্পীদের যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি। বিষয়টি কখনো গণমাধ্যম বা কাউকে জানাইনি। কারণ শিল্পীরা হলেন সম্মানিত ব্যক্তি। বিষয়টি জানানো হলে সেই শিল্পীর সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। এ বিষয়ে একটি কথা বলতে চাই, প্রয়াত অভিনেতা খলিল সাহ্বে যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে তার বাসায় আমি নিজে গিয়ে দুই লাখ টাকা তাকে দিয়ে এসেছিলাম। এ খবরটি সমিতির তৎকালীন কর্মকর্তারা ছাড়া আর কেউ জানতেন না। কিন্তু যে বছর খলিল সাহেবকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হলো সে বছর আমিও সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেলাম। এই সম্মাননা গ্রহণ করতে গেলে খলিল সাহেব আমার সামনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনাকে বললেন, শাকিব খান সমিতির পক্ষ থেকে আমাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শাকিব আরও বলেন, এমন আরও অনেক অসুস্থ, অসহায় শিল্পীর সংকট মুহূর্তে তাদের নীরবে সহযোগিতা করেছি। এমনকি ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবেও শিল্পীদের হাতে উপহার তুলে দিয়েছি। কিন্তু শিল্পীদের সম্মান রক্ষার্থে তা কখনো কাউকে জানাইনি। শাকিবের কথায় অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে সংগঠন করতে হয় না। ব্যক্তিগতভাবেও করা যায়। আসলে শিল্প ও শিল্পী বাঁচে কাজের মাধ্যমে। তাই এখন যারা এই শিল্পে আসছেন তাদের উদ্দেশে শুধু একটি কথাই বলব শিল্পটিকে যদি আপনারা ভালোবাসেন এবং এর উন্নয়ন চান তাহলে শুধুই কাজ করে যান। আবারও বলছি চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে গুণগত মানের ছবি নির্মাণ আর অভিনয়ের বিকল্প নেই। আমাদের দেশের একজন শিল্পী যদি দেশ ও দেশের বাইরে কাজ করে প্রতিষ্ঠা পায় তাহলে সেটি নিজ দেশের জন্যই গর্ব ও সম্মানের। শাকিব বলেন, কাজ না করে সংগঠন করা এবং সেই সেবামূলক সংগঠনে বসে কাউকে নিষিদ্ধ করা, কারও কাজের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করা এবং রাস্তায় মিছিল-মিটিং আন্দোলন করে কোনো লাভ নেই। এতে দেশ- বিদেশের কাছে দেশীয় এই শিল্পটিকে খাটো করা হয়। শিল্পটি পিছিয়ে পড়ে। এসব না করে বরং কেউ ভালো কাজ করলে তাকে সহায়তা করা এবং আরও অনেকে যাতে ভালো কাজ করতে পারে সেই ক্ষেত্র তৈরি করা উচিত। তিনি বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র জগতে যে পরিমাণ সমিতি রয়েছে পৃথিবীর কোথায় তা নেই। বিশ্বের সবাই কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তাদের সংগঠন করার সময় কোথায়। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এত সংগঠন নেই। ইন্ডিয়ান মোশান পিকচার্স (ইমপা) নামে একটি সংগঠন শুধু রয়েছে। এই সংগঠনটি চলচ্চিত্রের প্রতিটি সেক্টরের কাজের নীতিনির্ধারণ করে। নানা নিয়ম-কানুনের মাধ্যমে শিল্পটিকে রক্ষা করে। তাই আবারও বলছি, অন্তত এখন যারা এই শিল্পে আসছেন তাদের কাজ করতে হবে ডেডিকেশন নিয়ে। তাহলেই শিল্পের চাকা ঘুরবে, ভাগ্য বদলাবে। আর কেউ ভালো কাজ করলে তাকে পেছন থেকে টেনে ধরে থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা না করে উৎসাহিত করা দরকার। না হলে দেশের এই প্রধান গণমাধ্যম চলচ্চিত্র শিল্পেরই ক্ষতি হবে। শাকিব খান আক্ষেপের সুরে বলেন, আমাকে অহেতুক অনেকে ব্যান করেছিল, আমার বিরুদ্ধে নানা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছিল কিন্তু এতে কি আমার কোনো ক্ষতি হয়েছে? দর্শক ঠিকই তাদের অন্তরে আমাকে ভালোবাসার আসনে ঠাঁই দিয়ে রেখেছে। রাষ্ট্র আমাকে জাতীয় সম্মান দিয়ে গেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাকে বলেছেন, ‘মনে রাখবে ঝড়-ঝাপটা সব সময় বড় গাছের ওপর দিয়েই বয়ে যায়। এতে স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয় না। তাই মন খারাপ করো না, তুমি তোমার মানসম্মত কাজ অক্ষুণ্ন রাখ। তোমার কাজই তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথাই সত্যি। একজন রাজ্জাক, ফারুক, আলমগীর, সোহেল রানা, উজ্জল সাহেব এবং সুচন্দা, শাবানা, ববিতা ম্যাডামসহ তাদের মতো অন্য শিল্পীরা আজও তাদের কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন আজীবন। তাই আবারও বলতে চাই চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে কাজের কোনো বিকল্প নেই। তাই বলে আমি সমিতির বিপক্ষে বা বিরুদ্ধে নই। আমি বলতে চাই শুধু সমিতি নিয়ে বসে  থেকে লাভ নেই। চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য দরকার কাজ, কাজ এবং কাজ। কাজের কোনো বিকল্প নেই।

 

 


আপনার মন্তব্য