শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:২৫

৬৫ বসন্তেও আবেদনময়ী রেখা

৬৫ বসন্তেও আবেদনময়ী রেখা

বলিউডের ডিভা খ্যাত অভিনেত্রী রেখার আজ জন্মদিন। বর্ণিল জীবনের ৬৫ বসন্তে পা রাখলেও বয়স তাকে একটুও ছুঁতে পারেনি। বলিউডের চিরসবুজ আবেদনময়ী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত তিনি।  ৫২ বছরের রুপালি পর্দা জীবনে এতটুকু দাঁড়ি-কমা পড়েনি তার। এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর বর্ণাঢ্য জীবনের নানাদিক তুলে ধরেছেন-  আলাউদ্দীন মাজিদ

 

রেখার জন্ম

১৯৫৪ সালের ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণকারী এ অভিনেত্রীর পারিবারিক নাম ভানুরেখা গণেশন। ‘রেখা’ নামেই সমধিক পরিচিত।

 

অভিনয় জীবনের সূচনা

১৯৬৬ সালে তেলেগু রাঙ্গোলা রতœাম সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র ১১ বছর বয়সে প্রথম বড় পর্দার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান রেখা।

 

যে কারণে অভিনয়ে আসা

পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় শৈশবেই স্কুল ত্যাগ করেন, এবং ১৯৬৬ সালে ‘রাঙ্গোলা রতœাম’ নামের একটি তেলেগু ছবিতে শিশুশিল্পী হন।

 

রেখার বাবা-মা

রেখার বাবা ছিলেন তামিল সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক জেমিনি গণেশন। মা তেলেগু অভিনেত্রী পুষ্পাবলী।

 

নায়িকা হিসেবে অভিষেক

১৯৬৯ সালে ‘আনজানা সফর’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে  রেখার। ১৯৭০ সালে নায়িকা হিসেবে প্রথম মুক্তি পায় তার ‘শাওন ভাদে’ ছবিটি।

 

বিনোদ মেহরাকে বিয়ে

‘ঘর’ সিনেমায় বিনোদ মেহরার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন  রেখা। তখন রেখা-বিনোদ নাকি গোপনে বিয়ে সেরে ফেলেছেন। বিনোদের মায়ের আপত্তির কারণেই নাকি রেখা-বিনোদ একসঙ্গে সংসার করতে পারেননি।

 

মুকেশকে বিয়ে

১৯৯০ সালে দিল্লির বিখ্যাত ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে হঠাৎ করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রহস্যময়ী রেখা।

 

স্বামীর আত্মহত্যা

বিয়ের এক বছরের মধ্যেই মুকেশ আত্মহত্যা করেন। রেখা তখন আমেরিকায় ছিলেন। অনেকে ধারণা করেন, একাধিক পুরুষের সঙ্গে  রেখার সম্পর্কের কারণেই অভিমানী মুকেশ আত্মহত্যার পথ বেছে  নেন। মুকেশ সুইসাইড নোট লিখে যান, আত্মহত্যার পেছনে কারও   দোষ নেই।

 

ডিভা শব্দের প্রচলন

বলিউড তথা গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্রে ‘ডিভা’ শব্দটির প্রচলন হয় মূলত রেখার কারণেই।

 

নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা

প্রথমদিকে নায়িকা হিসেবে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দো আনজানে’ সিনেমায় অমিতাভের সঙ্গে তার অনবদ্য অভিনয় তাকে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির নায়িকার তকমা এনে দেয়।

 

অভিনয়ের স্বীকৃতি

প্রায় ৫২ বছরের ক্যারিয়ারে ১৮৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন তিনবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। ১৯৮২ সালে ‘উমরাও জান’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কারও জেতেন। এছাড়া পদ্মশ্রী পদকেও ভূষিত হন তিনি।

 

নানা আখ্যা

‘ম্যান-ইটার’, ‘নিম্ফোম্যানিয়াক’, ‘সেক্স কিটেন’সহ আরও কত শত  নেতিবাচক নামে তাকে আখ্যায়িত করা হতো।

তার বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে জীবনীগ্রন্থ ‘রেখা : দ্য আনটোল্ড স্টোরি’।

 

আলোচিত যত ছবি 

উমরাহ জান, ঘর, মুকাদ্দার কা সিকান্দর, সিলসিলা, খুবসুরত, উৎসব, মুঝে ইনসাফ চাহিয়ে, মি. নটওরলাল, গজব, খুন ভরি মাঙ, ফুল বানে অঙ্গারে, জীবনধারা, খুশবু, একই ভুল, কই মিল গিয়া, কৃষ, সুপার নানী, জানবাজ, লজ্জা, পরিণীতা, জুদাই, মাঙ ভারি সাজনা, বসিরা, বুলন্দী, আস্থা, কামাসূত্রা, খিলাড়ো কা খিলাড়ি, মেরে পতি স্রেফ মেরে হ্যায়, আমিরি গরিবী, শাওন ভাদো, জুদাই, সোহাগ প্রভৃতি।

 

রেখা-অমিতাভের প্রেম

বলিপাড়ার সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে রেখা-অমিতাভের প্রেমের সম্পর্ক। অমিতাভ-রেখা নাকি বিয়েও সেরে ফেলেছেন। ঋষি কাপুর আর নিতু সিংহের বিয়ের পার্টিতে একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন অমিতাভ-রেখা। তখন রেখার সিঁথিতে সিঁদুরও দেওয়া ছিল। আর এ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রেখা। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দো আনজানে’ ছবিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করেন অভিতাভ-রেখা। শরীরের মেদ ঝরিয়ে এই সিনেমার মধ্য দিয়ে রেখা সম্পূর্ণ নতুন রূপে হাজির হয়েছিলেন। রোমান্টিক ঘরানার এ ছবির শুটিং সেটেই রেখাকে  দেখে ফিদা হয়ে যান বিগ বি। অথচ রেখার প্রেমে হাবুডুবু খাওয়ার কয়েক বছর আগেই আরেক বলিউড অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ির সঙ্গে গাঁটছড়া  বেঁধেছিলেন সত্তরের দশকের এই ‘অ্যাংরি ইয়ংম্যান’। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গঙ্গা কি সুগন্ধ’ ছবির শুটিং সেট থেকে মাঝে মধ্যে কাউকে কিছু না বলে উধাও হয়ে যেতেন তারা। ১৯৮২ সালে মুক্তি পায় এই জুটির শেষ সিনেমা ‘সিলসিলা’। সুপার ডুপার হিট এ ছবির পর থেকে আর কোনো ছবিতেই একসঙ্গে দেখা মেলেনি এই দুই মহারথীর। অমিতাভের স্ত্রী জয়া বচ্চন এ সম্পর্ককে কখনোই ভালো চোখে দেখেতেন না। রেখাকে একবার সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো অবস্থায়ই স্বামীকে ছেড়ে যাবেন না তিনি। এরপর থেকেই মূলত তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। অমিতাভও ঘর সামলাতে সব গুজবের পাশ কাটিয়ে অনেকটা দূরে সরে আসেন।


আপনার মন্তব্য