শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৪১

মিথিলার বাড়িতে জামাইভোজেও বিতর্কে সৃজিত

আলাউদ্দীন মাজিদ

মিথিলার বাড়িতে জামাইভোজেও বিতর্কে সৃজিত

সৃজিত-মিথিলার প্রেম-বিয়ে নিয়ে আলোচনা শেষ না হতেই শ্বশুরবাড়িতে ভূরিভোজ নিয়ে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সৃজিত। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে গরুর মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করায় সৃজিত মুখার্জির ওপর ক্ষুব্ধ ভারতীয়রা। তবে অনেকেই আবার তার প্রশংসাও করেছেন।

চলতি মাসের ৬ ডিসেম্বর কলকাতার জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্র নির্মাতা বিয়ে করেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী মিথিলাকে। বিয়ের পর তারা হানিমুনে যান জেনেভায়। অনেকের কথায় এই হানিমুন ছিল রথ দেখা আর কলা বেচা, দুই-ই।

মধুচন্দ্রিমার পাশাপাশি ছিল মিথিলার পিএইচডিতে ভর্তি হওয়া। মিথিলা মধুচন্দ্রিমার ডায়েরির আদর করে নাম রেখেছেন ‘হানিমুনার্স’। হানিমুন সেরে সরাসরি বাংলাদেশে পাড়ি দেন সৃজিত-মিথিলা। প্রথমবার শ্বশুরবাড়িতে জামাই আদর পেয়ে বেজায় খুশি তিনি। খুশিতে টইটম্বুর সৃজিত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন শ্বশুরবাড়ির বাহারি রান্নার ছবি। মেন্যুতে ছিল ঝিরি ঝিরি আলুভাজা, লটে শুঁটকি, পাবদা মাছ, মুরগির ঝোল এবং বাঁধাকপি দিয়ে গরুর গোশত। ক্যাপশনে সৃজিত লেখেন, ‘শ্বশুরবাড়ির প্রথম অফিশিয়াল ভূরিভোজ।’ এরপর সৃজিতের এই টুইটকে ঘিরেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। তবে সৃজিতের অনুরাগীদের বেশির ভাগই শ্বশুরবাড়ির সুস্বাদু খাবারের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ অবশ্য সমালোচনাও করেছেন। সৃজিতকে উদ্দেশ্য করে একজন লেখেন, ‘হিন্দু নামের কলঙ্ক আপনি। আগে আপনাকে সম্মান করতাম। কিন্তু এই পোস্ট পড়ার পর থেকে আপনাকে ঘৃণা করি। আপনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করুন। আই হেট ইউ।’ সেই টুইটার ব্যবহারকারীকে ছেড়ে কথা বলেননি সৃজিত। তিনি পাল্টা লেখেন, ‘হিন্দু ধর্ম নিয়ে কথা আপনার মতো অশিক্ষিতের মুখে বেমানান। ঋকবেদ, মনুস্মৃতি ও গৃহসূত্রর কিছু শ্লোক দেব খাওয়া-দাওয়া নিয়ে, রোজ সকালে কান ধরে ছাদে দাঁড়িয়ে মুখস্থ করবেন। ভদ্রভাবে বোঝালাম, নয়তো মনে রাখবেন বাইশে শ্রাবণের সংলাপ কিন্তু আমারই লেখা।’

এদিকে সৃজিতের ফ্যানরা তার প্রশংসায় ফেটে পড়েন।

কেউ লেখেন, ‘আমি আমার কষ্টার্জিত টাকায় গরুর মাংস খেলাম না কুমিরের মাংস খেলাম, না অ্যাভোকাডো খেলাম সেটা তো আমার ব্যাপার।’ অনেকের মতে, ‘ভাই, তোমাকে হিন্দু ধর্ম নিয়ে পাঠ উদ্দিষ্ট ব্যক্তি ভালো মতো দিয়েছেন এ নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে একটা পরামর্শ নাও। যে ব্যক্তিকে ঘৃণা করবে, সমালোচনা করবে তার সমতুল্য জ্ঞানী হবে বা তার জ্ঞানের ছিটেফোঁটা অর্জন করে আসবে। নইলে উল্টো বাঁশ সামলানো বেশ কষ্টকর।’

যদিও সৃজিতের বক্তব্যের বিরোধিতাও করেছেন কয়েকজন। একজন লিখেছেন, ‘আপনার যা ইচ্ছা আপনি খেতেই পারেন। কিন্তু বেদ-এ এসব কিছু লেখা নেই। দয়া করে বেদ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াবেন না।’ এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ওপার বাংলার অভিনয়শিল্পী দেব ও নুসরাত জাহান। সৃজিতের গরু খাওয়ার প্রশংসা করেছেন দেব। বাংলাদেশে এসে শ্বশুরবাড়িতে গরুর মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করায় সৃজিতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেব। আর নুসরাত জাহান সৃজিতের গরুর মাংস খাওয়ার জন্য ‘গুড ডান’ বলে মন্তব্য করেছেন। টুইটারে সৃজিতকে উদ্দেশ করে একজন মন্তব্য করেন, ‘অপেক্ষায় আছি যখন আপনি শ্বশুরবাড়ির খাবারের তালিকায় পর্ক (শূকরের মাংস) রাখবেন। আমার ধারণা আপনার শাশুড়ি পর্ক রান্না করতে পছন্দ করবেন।’ উত্তরে সৃজিত লেখেন, ‘তিনি পর্ক খান না ও রান্নাও করেন না, যেমন আমার মা গরু খান না ও রান্নাও করেন না। কিন্তু আমি সব খাই। আপনার মতো পৃথিবীতে যত কীট আছে, সব। আপনাকে তামাকের সঙ্গে খেতে অনেক ভালো লাগবে।’ সৃজিতকে সমর্থন জানিয়ে টুইটটি রিটুইট করেন নুসরাত। ক্যাপশনে লেখেন, ‘খাদ্য শৃঙ্খল সম্পর্কে ওদের জানা নেই। ক্ষমা করে দাও।’ এর আগে কলকাতার নামি পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী  মিথিলার প্রেমের গুঞ্জন চলেছে কয়েক মাস ধরে। সৃজিতের জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায় মিথিলাকে। যার ফলে তাদের প্রেম ও বিয়েবিষয়ক গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। তবে কোনো গুঞ্জনকেই তখন পাত্তা দেননি সৃজিত-মিথিলা। দুজনেরই দাবি, তাদের মধ্যে বিশেষ বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সেই বিশেষ বন্ধুর সঙ্গে গত নভেম্বরে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে হাজির হন মিথিলা। সেখানে তারা একই ফ্রেমে বন্দী হন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে। তাতেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে, তবে কি সত্যি তাদের বন্ধুত্ব অন্য কোনো নাম, পরিচয় নিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের নাট্য পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে তোলা মিথিলার ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়। গোটা ঘটনায় মিডিয়াকে দায়ী করে সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ জানান মিথিলা। এ ঘটনায় মিথিলার পাশে দাঁড়ান  সৃজিত। তাকে ‘বাঘিনী’র সঙ্গে তুলনা করে সৃজিত ফেসবুকে লিখেন, ‘যত দিন যাচ্ছে তোমায় নিয়ে আরও গর্ববোধ করছি।’ চলতি বছরে গায়ক অর্ণবের একটি মিউজিক ভিডিওর কাজে কলকাতায় গিয়ে পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মিথিলার। এর কয়েকদিন পর মিথিলাকে গোটা কলকাতা শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা ঘুরিয়ে দেখান সৃজিত। সেসব ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হতে সময় লাগেনি। এরপর প্রকাশ হয় সৃজিতের জন্মদিনের ঘরোয়া পার্টিতে মিথিলার কেক কাটার ছবিও। শেষ পর্যন্ত  রাফিয়াত রশিদ মিথিলাকে ঘরনি করে নিয়েছেন সৃজিত। হয়েছেন ‘মি. অ্যান্ড মিসেস মুখার্জি’।


আপনার মন্তব্য