শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর, ২০১৬ ১৯:৩৮
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০১৬ ২০:২০

ব্ল্যাক ফ্রাইডে এলো যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক

ব্ল্যাক ফ্রাইডে এলো যেভাবে

ব্ল্যাক ফ্রাইডে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ একটি দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার আমেরিকায় থ্যাঙ্কস গিভিং ডে পালিত হয়। ঠিক তার পরদিনই অর্থাৎ নভেম্বর মাসের চতুর্থ শুক্রবারটি হচ্ছে ব্ল্যাক ফ্রাইডে দিবস। আমেরিকান রীতি অনুযায়ী এ শুক্রবার থেকেই শুরু হয় ক্রিসমাস হলিডে সিজন। 

১৮৬৯ সালের কথা। আমেরিকায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল। ব্যবসায়ীরা নিজের দুরবস্থা কাটাতে ভাবলেন এক অভিনব পন্থার কথা। তারা ঠিক করলেন একটি দিন ঠিক করে নতুন নতুন পণ্য, মূল্য হ্রাসের টোপ ফেলে ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী করে তুলবেন। আর তখনই উদ্ভব হয় ব্ল্যাক ফ্রাইডে। ব্ল্যাক শব্দটি নেকিবাচক অর্থ বহন করলেও ব্ল্যাক ফ্রাইডের ‘ব্ল্যাক’ শব্দটি ব্যবসায়িক দিক থেকে ইতিবাচক দিককে নির্দেশ করে। 

মজার ব্যাপার হলো, একটি ব্ল্যাক ফ্রাইডে দিবসে যে পরিমাণ বিক্রি হয়, তাতে এই একদিনেই আমেরিকার অর্থনীতির সূচক এক লাফে অনেক উপরে উঠে যায়। সাধারণত হিসাবের খাতায় লোকসানকে লাল কালিতে চিহ্নিত করা হলেও এ দিবসের শুরুর দিন থেকেই হিসাব-নিকাশ কালো কালিতে লেখা শুরু হয়ে যায়। কাজেই ব্যবসায় বিরাট লাভ দিয়ে যে দিনটি শুরু হয়, সে দিনকে যথার্থই ব্ল্যাক বলা যায়। 

তবে ব্ল্যাক ফ্রাইডে নামটি এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন উৎস থেকে। ১৯৬৬ সালে ফিলাডেলফিয়া রাজ্য পুলিশ থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র পরের দিনকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে নামে অভিহিত করেছিল। কারণ এই দিনে আমেরিকায় বছরের সবচেয়ে বড় সেল ও বছরের সবচেয়ে উত্তেজনাকর ফুটবল গেম অনুষ্ঠিত হতো। এ খেলার প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত আমেরিকান সেনাবাহিনী। এ খেলার কারণে শহরের রাস্তাজুড়ে থাকতো ট্রাফিক জ্যাম। এ ছাড়া ফুটপাতে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় সামলাতে পাগলপ্রায় হয়ে যেত ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ ও বাস ড্রাইভাররা। এদিনকে সামনে রেখে আমেরিকার রিটেইল স্টোরগুলো এবং আসবাবপত্রের দোকানগুলো বিভিন্ন ছাড় ও পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে থাকে। এছাড়া ছোট-বড় বিভিন্ন কোম্পানি দু’-তিন সপ্তাহ আগে থেকেই ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল উপলক্ষে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারণা চালাতে থাকে। টিভি-রেডিও এবং প্রতিদিনের সংবাদপত্রে প্রচার চালানোর পাশাপাশি প্রত্যেক বাড়ির মেইলবক্সে রঙিন সেল পেপার দেয় তারা। কে কী আইটেম নিয়ে বাজারে আসছে অথবা কে কত বেশি আকর্ষণীয় মূল্যে পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেবে, এটা নিয়ে কোম্পানিগুলোর মধ্যে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। বিক্রেতাদের পাশাপাশি ক্রেতারাও থাকেন উত্তেজিত। 

এদিনটি আসার দুই-তিন সপ্তাহ আগে থেকেই ক্রেতারা চিন্তা করতে থাকেন, তারা কোনো আইটেমগুলো কিনবেন। এদিনে সাধারণত ব্ল্যাক ফ্রাইডেকে সামনে রেখে ক্রেতাদের মধ্যে থাকে তীব্র উত্তেজনা। কখনো কখনো আগের রাত থেকেই ক্রেতারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর এ কারণে কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে। যেমন: ২০০৭ সালে নিউইয়র্কে ঘটেছিল একটি দুঃখজনক ঘটনা। ব্ল্যাক ফ্রাইডের সেলে ওয়ালমার্টে ঢোকার জন্য আগের রাত ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিল মানুষ। ভোর ৫টায় দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার পানির মতো মানুষ ঢুকে পড়ে দোকানে। তাদের ধাক্কায় ৩২ বছর বয়সী এক লোক মাটিতে পড়ে পদপিষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা যায়। -ইন্টারনেট থেকে। 


বিডি-প্রতিদিন/ ২৪ নভেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ-২০


আপনার মন্তব্য