শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:১১
আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:১৪
প্রিন্ট করুন printer

সৌদির ফল ‘সাম্মাম’ এখন কুষ্টিয়ায়

জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

সৌদির ফল ‘সাম্মাম’ এখন কুষ্টিয়ায়

সৌদি আরবের সুস্বাদু সাম্মাম ফলের চাষ হচ্ছে কুষ্টিয়ায়। এ ফলের চাষ করেছেন জেলার মিরপুর উপজেলার কচুবাঢ়ীয়া এলাকার কলেজছাত্র নাঈম ইসলাম। তার ক্ষেতে অপ্রচলিত এই ফলের ফলনও ভাল হয়েছে। এতে খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন নাঈম। 

নাঈম কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

করোনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কলেজ বন্ধ। বাড়িতে বসে সময় যেন কাটছিল না নাঈমের। সময় কাটানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে কৃষির কথা মনে আসে তার। প্রবাসী বড় ভাই এর পরামর্শে সৌদি ফল “সাম্মাম” চাষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। পরে ইন্টারনেট ও কৃষি অফিসের পরামর্শে বাণিজ্যিকভাবে এ ফল চাষের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রাথমিকভাবে ৩৩ শতক জমি বর্গা নিয়ে তিনি এ চাষ করেছেন।

নাঈম জানান, মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে বগুড়ার একটি খামার থেকে সাম্মাম ফলের চারা সংগ্রহ করেন। তার ক্ষেতে ৩ হাজার সাম্মাম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে ২-৩টি করে ফল এসেছে। বেশি ফল রাখলে ফলন কম হয়। একেকটি ফলের ওজন হয় দেড় থেকে দুই কেজি। প্রতিটি গাছেই ফল বেশ ভালো এসেছে। 

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকার মতো। এ জমি থেকে তিনি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো লাভ হতে পারে বলে আশা করছেন।

নাঈমের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় কুমড়া গাছের মতো লতানো গাছ। গাছের ফাঁকে ঝুঁলছে দেশি বাঙ্গীর মতো ফল। প্রায় প্রতিটি গাছেই ভরপুর ফল। বাঁশের মাচা আর পলিথিনের জালের ফাঁকে ফাঁকে পুরো ক্ষেত যেন ফলে ভরে রয়েছে।

নাঈম আরও জানান, এ ফল খুবই পুষ্টি সমৃদ্ধ। বহির্বিশ্বে এ ফলের বেশ প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশে এটির প্রচলন এখনও কম। এ ফলকে সৌদিতে সাম্মামসহ বিভিন্ন দেশে “রক মেলন”, “সুইট মেলন”, “মাস্ক মেলন”, “হানী ডিউ” নামে পরিচিত। দুই জাতের এ ফল রয়েছে। একটি জাতের বাইরের অংশ সবুজ আর ভেতরের অংশ লাল, আরেকটি জাতের বাইরের অংশ হলুদ এবং ভেতরের অংশ লাল। তবে খেতে দুই ধরনের ফলই খুব মিষ্টি ও রসালো। 
তিনি বলেন, দোঁয়াশ মাটিতে সাম্মাম চাষ করা ভালো। মাটি ভালোভাবে চাষ করে বেড এবং নালা করে, মালচিং দিয়ে এ ফলের চাষ করতে হয়। তাহলে বেশ ভালো ফলন পাওয়া যায়। এটি খুবই অল্প সময়ের ফসল। গাছ লাগানোর দেড় মাসের মধ্যেই হয় সাম্মাম ফল। 

তিনি বলেন, যেহেতু এই ফল কাঁচা-পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়, এ জন্য তিনি পোকামাকড় দমনে কিটনাশকের পরিবর্তে ফেরামন ফাঁদ ব্যবহার করছেন। নতুন এই ফল এবং ফলের চাষাবাদ দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করছেন নাঈমের ক্ষেতে।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, রক মেলন বা সাম্মাম বিদেশি ফল হলেও আমাদের দেশে এটির চাষ করা সম্ভব। মিরপুর উপজেলার কচুবাড়ীয়া এলাকার একজন তরুণ এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে এ বছর এ ফলের চাষ করেছে। সে খুব ভালো ফলও পাচ্ছে। 

তিনি বলেন, পুষ্টি সমৃদ্ধ ফলমুল এবং আধুনিক চাষাবাদে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

বিডি প্রতিদিন/কালাম