Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৩৩

শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি বন্ধ করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি বন্ধ করুন
ড. ইফতেখারুজ্জামান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বুয়েটের ছাত্র আবরারের নৃশংস হত্যাকা- আমাদের বাকস্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুরতম আঘাত। ছাত্রসংগঠন তথা শিক্ষাঙ্গনের ওপর দুর্বৃত্তায়িত অসুস্থ রাজনৈতিক প্রভাবের নিষ্ঠুর পরিণতি। দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাপুষ্ট ছাত্রসংগঠনের সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের যে গৌরবোজ্জ্বল অতীত ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা তাকে ম্লান করে দিচ্ছে ছাত্রসংগঠনের ওপর দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির নিষ্ঠুর প্রভাব। ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী কর্তৃক বাকস্বাধীনতার ওপর নৃশংস আঘাতের সূতিকাগার রাজনৈতিক নেতৃত্বের একাংশের পরমত অসহিষ্ণুতা ও অসুস্থ একচ্ছত্রায়িত ক্ষমতার রাজনীতি। যা এক বিধ্বংসী তাড়নায় বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলনের গৌরবকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন এবং শঙ্কিত। আশাকরি রাজনৈতিক  নেতৃত্বের দায়িত্বশীল অংশ আমাদের এই উৎকণ্ঠার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারবেন, অনুতপ্ত হবেন। তারা শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও সর্বোপরি আইনের শাসন এবং প্রজন্মের কল্যাণ বিবেচনায় ছাত্রসংগঠনগুলোকে অসুস্থ রাজনীতির কালো থাবামুক্ত করবেন। ড. জামান বলছেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষার্থীরাই বারবার সোচ্চার হয়েছেন। আজ তাদেরই উত্তরসূরিদের ব্যবহার করা হচ্ছে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের প্রক্রিয়ায় তারা অন্যতম সহযোগিতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের একদিকে বহুমুখী ক্ষমতার অপব্যবহার, খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাস্তানি, মাদকব্যবসাসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যাতে জড়িয়ে পড়ছেন না। অনেকে সরাসরি দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। এই পুরো অসুস্থ অবকাঠামোকে ভেঙে দেওয়া ছাড়া উত্তরণের আর কোনো পথ আছে বলে আমাদের জানা নেই। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এবং দাবি, ‘এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করুন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমরা আহ্বান জানাতে চাই সরকারের প্রতি, যেন তাঁরা উপলব্ধি করেন যে, আবরার হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের লালিত মরণব্যাধির লক্ষণ মাত্র। এর প্রতিকার সরকারেরই হাতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাঙ্গনে আরও যেসব অনিয়ম, সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর মতো এই ঘটনাও শেষ পর্যন্ত ধামাচাপা দেওয়া হলে এর দায় তাদেরই বহন করতে হবে।


আপনার মন্তব্য