শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২১ ২৩:০৫

হুইপ সামশুল হক ও পুত্র শারুনের গ্রেফতার দাবিতে আলটিমেটাম

সামশুলের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক : ভাস্কর রাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

হুইপ সামশুল হক ও পুত্র শারুনের গ্রেফতার দাবিতে আলটিমেটাম
হুইপ সামশুল হক ও পুত্র শারুনের গ্রেফতার দাবিতে গতকাল বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহম্মদকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরী এবং তার ছেলে শারুন চৌধুরীর গ্রেফতার দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহম্মদকে হত্যার হুমকিদাতা হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপিকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার ও সংসদ সদস্যপদ শূন্য ঘোষণাসহ দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। জীবন বাজি রেখে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন সামছুদ্দিন আহম্মদ। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। ৮০ বছর বয়সী সেই মুক্তিযোদ্ধাকে লুঙ্গি খুলে পেটানোর হুমকি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরী ও তার ভাই মোহাম্মদ আলী নবাব। শুধু তাই নয়, তাকে লুঙ্গি খুলে বাজারে ঘুরানোরও হুমকি দেন তারা। আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, হুইপ সামশুল হক, তার ভাই এবং তার ছেলে শারুন চৌধুরীর অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় আক্রমণাত্মক হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। এই বয়সে এসে এভাবে অপমানিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুদ্দিন আহম্মদ। হুইপ ও তার পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ও সাধারণ মানুষের ওপর এভাবে প্রতিনিয়ত নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহম্মদকে হুইপ, তার ভাই মোহাম্মদ আলী নবাব ও তার ছেলে শারুন চৌধুরী প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

মানববন্ধনে আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, সামশুল হক চৌধুরী তার আসনে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি করছেন। যে অপকর্ম করছেন তার প্রতিবাদে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। এই সামশুল হক চৌধুরী একজন গিরগিটির মতো, যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে তখন সেই দলের কর্মী হয়ে খেলা দেখিয়েছেন। আজকে পটিয়ার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সেখানে যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ করেন তাদের তিনি রাজনীতিতে কোনো সুযোগ দেন না। তাদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেন। দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, সামশুল হক এই সমাজের একজন আবর্জনা। এই আবর্জনা জাতীয় সংসদে থাকতে পারে না। এই সামশুল হক নামক আবর্জনাকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ প্রতিরোধ করবে। আমরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে এই দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির দোসর সামশুল হক চৌধুরীকে অতি দ্রুত সমাজ থেকে বিতাড়িত করব। তিনি বলেন, এই সামশুল হক ও তার ছেলে শারুন চৌধুরীকে যদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেফতার করা না হয় তাহলে আমরা সারা দেশে একযোগে আরও কঠোর কর্মসূচি দেব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দেব। তাকে বহিষ্কার করার জন্য যত কর্মসূচি প্রয়োজন আমরা সেই কর্মসূচি দেব। সামশুল হক ও তার ছেলে শারুনের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে আছি। তিনি বলেন, আমরা যাদের জন্য স্বাধীন দেশ পেয়েছি, তাদের অপমান করে, তাদের লুঙ্গি খুলে অপমান করে, এমন দুর্বৃত্তদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সামশুলের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক : রাশা

প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উপদেষ্টা রাশা বলেন, আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে উলঙ্গ করে পেটানোর ঘোষণা দিয়েছেন পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ না হলে আপনি তো সংসদ সদস্য হতে পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধ না হলে আপনি তো পটিয়ায় থেকে ছড়ি ঘুরাতে পারতেন না। অথচ মুক্তিযোদ্ধাকে আপনি অপমান করছেন। আমার মনে হয় আপনার সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক থাকতে পারে। না হলে বারবার কেন আপনি? মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতিপক্ষ করছেন। তিনি বলেন, আপনি সামশুল হক চৌধুরী আপনাকে বারবার আমরা দেখেছি মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করতে, মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করতে। এই স্পর্ধা আপনি কোথা থেকে পাচ্ছেন? রাশা বলেন, সামশুল হক চৌধুরীর এই অপকর্মের প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে। কারণ, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হলে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা মানে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা। মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা মানে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। আর কেউ যদি বাংলাদেশকে অস্বীকার করে তার ওই পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। যে প্রশ্ন উঠেছে তাতে সামশুল হক চৌধুরীকে এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করা যায়। কারণ, তিনি মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করেন না। এদের যদি বহিষ্কার করা না হয় তাহলে এরা গন্ডায় গন্ডায় জন্মাবে, এরা ঘণ্টায় ঘণ্টায় জন্মাবে। তিনি বলেন, সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ পটিয়ার উদ্দেশে লংমার্চ করতে পারে। তাকে জানিয়ে দেওয়া দরকার আজকের বাংলাদেশে রাজাকারের ঠাঁই নেই।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, গত বছর যখন ক্যাসিনোকান্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে তখন এই সামশুল হক চৌধুরী তার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে আহ্বান, অবিলম্বে সামশুল হক চৌধুরী ও শারুন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শামসুল হক চৌধুরী শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুঙ্গি খুলে পেটানোর হুমকিই দেননি, তিনি গত বছর চট্টগ্রামের আর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দিদারুল আলমকেও হত্যার হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল। আমরা সেদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার সেই দাবি মেনে নেয়নি। যদি সেদিন আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হতো, তাহলে আজকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুদ্দিন আহম্মদকে হত্যার হুমকি দিতে পারত না। তাই আমরা সামশুল হক চৌধুরী ও শারুন চৌধুরীকে কারাগারে দেখতে চাই। আমরা আর তাদের পটিয়ায় দেখতে চাই না। পরে বিভিন্ন প্লাকার্ড ও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তারা বিক্ষোভ মিছিলে সামশুল হক চৌধুরী ও শারুন চৌধুরীর গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক এ জেড ইউ প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ প্রমুখ।