রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
দুই দলের যত প্ল্যান

তৃণমূল ঢেলে সাজাবে আওয়ামী লীগ

রফিকুল ইসলাম রনি

তৃণমূল ঢেলে সাজাবে আওয়ামী লীগ

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা শাখার সম্মেলন শেষ করার টার্গেট নিয়ে মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে দলের বেশ কয়েকটি জেলা-উপজেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। চলছে জেলায় জেলায় বর্ধিত সভা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শক্তিশালী তৃণমূল চান দলের হাইকমান্ড। এ লক্ষ্যে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। 

দলীয় সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪৩টি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দীর্ঘদিন। এ ছাড়া ৬২২টি সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে প্রায় সাড়ে চার শ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও দেড় যুগ ধরে চলছে একই কমিটি দিয়ে। তিন বছর মেয়াদি কমিটির নেতারা অনেকেই মারা গেছেন। ফলে উপজেলা-থানা এবং পৌরসভায় জট লেগে আছে। দলের এই জট ছাড়ানোর মিশনে নেমেছে কেন্দ্র। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটিগুলোর সম্মেলনও শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে যথা সময়ে সম্মেলন শেষ করতে পারিনি। করোনা কমে আসায় এখন আমরা দল গোছানোর কাজকে আরও বেগবান এবং সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মনোযোগী হয়েছি। যেখানে যেখানে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব আছে সেখানে তা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি, ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ সব জেলা ও উপজেলার সম্মেলন করতে সক্ষম হব। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আগে দলের তৃণমূল শক্তিশালী করে ঢেলে সাজাতে দেশের আটটি বিভাগের জন্য পৃথক আটটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছিল। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং আট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সাংগঠনিক এই টিমগুলো কাজে নামতে পারেনি করোনার কারণে। করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করায় এখন মাঠ রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন নেতারা। জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতির পাশাপাশি জেলায় জেলায় বর্ধিত সভা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে জেলা-উপজেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক শক্তি চাঙা, সারা দেশে দ্ধন্ধ-বিভেদ মিটিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করা, রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের সম্ভাব্য আন্দোলন রাজপথে মোকাবিলা, আগামী জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন দ্রুত সম্পন্ন, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলের প্রার্থীদের বিজয়ের ধারা বজায় রাখার প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে মাঠে থাকবে ইতোপূর্বে গঠিত আট বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম।  এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের তৃণমূলে সম্মেলন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমাদের একটি বার্তা দিয়েছেন। আমরা সভানেত্রীর বার্তা নিয়েই মাঠে কাজ শুরু করব। তিনি বলেন, আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করব। তৃণমূল শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে সরকার আরও শক্তিশালী হয়। শক্তিশালী সরকারের শক্তিশালী দলও প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, তিনি রাজশাহী বিভাগে দায়িত্ব পাওয়ার পর ৩০টি উপজেলা ও তিনটি জেলা এবং একটি মহানগরের সম্মেলন করেছেন। এখন পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সম্মেলন এবং কয়েকটি উপজেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটির সম্মেলন শেষ হবে। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর রাজবাড়ী জেলা শাখার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ইউনিট, ওয়ার্ড কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও নেত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর বেশ কয়েকটি জেলার সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

সর্বশেষ খবর