বুধবার, ১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ টা
১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ

জামিন নিতে আসা ব্যক্তিকে পুলিশে দিল হাই কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবি ব্যাংক থেকে ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের করা মামলায় জামিন নিতে আসা এক ব্যক্তিকে পুলিশে দিয়েছে হাই কোর্ট। এরশাদ আলী নামে ওই ব্যক্তির জামিন আবেদন খারিজ করে পুলিশকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয় আদালত। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। গতকাল বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজহারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আর আসামির পক্ষে ছিলেন শেখ মো. জাকির হোসেন।

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ৮ জুন এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক রিকশাচালক থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার মালিকানাধীন এরশাদ গ্রুপ ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টিতে এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক এরশাদ আলীকে।

এ ছাড়া এবি ব্যাংকের সাবেক এমডি মসিউর রহমান চৌধুরী ও শামীম আহমেদ চৌধুরী, সাবেক ইভিপি ও শাখা ম্যানেজার এ বি এম আবদুস সাত্তার, এভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার আবদুর রহিম, এসভিপি ও সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার আনিসুর রহমান, ভিপি শহিদুল ইসলাম, এভিপি মো. রুহুল আমিন, ইভিপি এবং হেড অব সিআরএম ওয়াসিকা আফরোজী, ভিপি, সিএমআরের সদস্য মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, সাবেক এসইভিপি ও হেড অব সিআরএম সালমা আক্তার, এভিপি ও সিআরএম সদস্য এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, এসভিপি ও সিআরএমের সদস্য শামীম এ মোরশেদ, ভিপি ও সিআরএমের সদস্য খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি ও সিআরএমের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ভিপি ও ক্রেডিট কমিটির সদস্য মাহফুজ-উল ইসলামকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একে অন্যের সহায়তায় জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে জাল কার্যাদেশ প্রস্তুত করে ছয়টি জাল কার্যাদেশের বিপরীতে ১৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। মামলায় উল্লিখিত এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার কর্মকর্তারা প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া সাতটি অবৈধ ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আরও ১০ কোটি টাকা ঋণ দেন, তা তুলে আত্মসাৎ করেন। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর