শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ২১:৫৫

দেখেশুনে খান কালিজিরার তেল

দেখেশুনে খান কালিজিরার তেল
ছবি : ইন্টারনেট

কালিজিরার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি। তবে বর্তমানে পুষ্টিকর বলে বাজারে যে কালিজিরার তেল বিক্রি হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশিই ক্ষতিকর। অবাক হচ্ছেন? কালিজিরার তেল নিয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষার ফলাফলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। যেখানে সেখানে নামে বেনামে যেসব কালিজিরার তেল পাওয়া যাচ্ছে তা না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এ তেল খেলে পেটের পীড়া বাড়বে। তাছাড়া সরাসরি তেল সেবনে বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাস্ট্রিক, আলসার এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক গুণগত মানের কালিজিরার তেল শরীরের জন্য উপকারী।

উপকারী এই তেলের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানকে অধিভুক্ত করে পূর্ণাভা লিমিটেড (রেনাটা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান) নামে একটি দেশীয় কোম্পানি বাজারে আনতে যাচ্ছে কালিজিরা তেলের এন্টেরিক কোটেড সফট জিলাটিন ক্যাপসুল। যা দেবে ১০০% বিশুদ্ধ কোল্ড প্রেসড প্রাকৃতিক কালিজিরা তেলের পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা। এই ক্যাপসুল সেবনে কালিজিরা তেলের সব উপকারিতা তো মিলবেই বরং সবচেয়ে বড় (বুক জ্বলার) যে সমস্যা সেটা থেকে এটি সম্পূর্ণ মুক্ত। ফলে যে কোনো মানুষ নিশ্চিন্তে এটি সেবন করে উপকার পেতে পারবেন অনায়াসে। পূর্ণাভা লিমিটেড তাদের অত্যাধুনিক কারিগরি দক্ষতায় প্রস্তুতকৃত এই ক্যাপসুল বাজারে দেওয়ার আগেই মানুষের ওপর নীতিগতভাবে এটি প্রয়োগ করে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেছে যে, এটি সত্যিই যে কোনো রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়ামুক্ত। এই গবেষণা থেকে যেসব উপকারিতা প্রমাণিত হয় তা হলো-

♦ এটি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল যেমন : LDL, TG কমিয়ে আনে এবং একই সঙ্গে উপকারী HDL কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে বিধায় শরীরে চর্বির মাত্রা অত্যন্ত চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

♦ শরীরের অতিরিক্ত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

♦  লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা বাড়িয়ে শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে।

♦ থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা নামিয়ে আনে বিধায় হাইপার থাইরয়েডিজমে উপকারী।

♦ ক্রিয়েটিনিন হ্রাস করে কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে সহকারী।

♦ এমনকি পুরুষের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি করতেও এটি বেশ কার্যকর।

কালিজিরার তেলে এতসব উপকারের রহস্য কিন্তু এর ভিতরেই নিহিত রয়েছে। কারণ এতে আছে ১০০টিরও বেশি উপাদান। এতে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি বিদ্যমান। কালিজিরার অন্যতম উপাদানের মধ্যে আছে নাইজেলোন, থাইমোকুইনোন ও মিক্সড অয়েল। এতে আরও আছে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডসহ নানা উপাদান।

পাশাপাশি কালিজিরার তেলে আছে লিনোলেইক অ্যাসিড, ওলেইক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, নিয়াসিন ও ভিটামিন-সি। এর মধ্যে রয়েছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট ছাড়াও জীবাণুনাশক বিভিন্ন উপাদান। এতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক কেরোটিন ও শক্তিশালী হরমোন, প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান, পাচক এনজাইম ও অম্লনাশক উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক। আমাদের আধুনিক ডাক্তারি শাস্ত্র আর ধর্মীয় অনুভূতি যাই বলি না কেন কালিজিরা সবখানে স্বমহিমায় উজ্জ্বল। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা মহৌষধ কালিজিরাকে একটি অব্যর্থ রোগ নিরাময়ের উপকরণ হিসেবে বিশ্বাস করে থাকেন।


আপনার মন্তব্য