শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০

ওয়েস্টার্ন পোশাকে ট্রেন্ডি ঈদ

ওয়েস্টার্ন পোশাকে ট্রেন্ডি ঈদ
ঈদ মানেই উৎসব। তাই নিয়ে তারুণ্যের উন্মাদনাও একটু বেশি। আর আগাম ফ্যাশন ভাবনা নিয়ে সবার প্রশ্ন থাকতে পারে কী হবে এবারের ঈদ ফ্যাশন। কেমন ট্রেন্ডে মাতবে তারুণ্য। আসলে প্রতি বছর ফ্যাশন দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর কারণেই ঈদের আয়োজন হয়ে ওঠে অনেক বেশি সমকালীন। তারুণ্য এখন ব্যাপক ফ্যাশন সচেতন বলেই সময়ের সঙ্গে পথচলায় ওয়েস্টার্ন ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রেন্ডি হয়ে উঠতে চান। জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকে মেতে উঠতে চান উৎসবের আমেজে। আর তাই তো ঈদ উৎসবের পোশাকে সবাই ফ্যাশনেবল এবং গর্জিয়াস পোশাক জড়িয়ে শামিল হতে চান ঈদ আনন্দে।

 

প্রতিটি উৎসবে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের ডিজাইনাররা নিজস্ব থিম ও পোশাকের প্যাটার্ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন এবং গ্রাহকদের উপহার দেন নিত্যনতুন পোশাক। এবারের ঈদেও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। দেশীয় পোশাকে তো বটেই, পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন ঘরনার পোশাকি অনুপ্রেরণায় যুক্ত দেশীয় ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ। গুরুত্ব পাচ্ছে আবহাওয়া। আর তাতেই পুরনো ফ্যাশন ভোল পাল্টে নতুন রূপে আসছে মানুষের ফ্যাশন ট্রেন্ডে। যেহেতু এবারের ঈদ গরমে তাই  সবগুলো ফ্যাশন হাউস হালকা রংকে গুরুত্ব দিয়েছে বেশি। সে অনুযায়ী ডিজাইনাররা নানা রঙের মাঝে বেছে নিচ্ছেন গুটিকয়েক রং। তবে এবারের ঈদ ফ্যাশনে সাধারণ কিছু রংও প্রাধান্য পাবে। হট চকলেট, মেরুন, গেরুয়া, পপি রেড, রোজ ভায়োলেট, ডাস্টি অলিভ, ডিপ অলিভ, বেবি ব্লুু, ডিপ ফিরোজা, নেভি ব্লু ইত্যাদি থাকছে এ বছর তরুণীদের ফেভারিটের তালিকায়। পোশাকি গায়ে ওয়েস্টার্ন তকমা জুটলেও দেশীয় আদলে তৈরি কুর্তি-কামিজই বেছে নিচ্ছেন আজকালকার তরুণীরা। এ বছর ঈদে ট্রেডিশনাল সালোয়ার কামিজের পাশাপাশি শর্ট লেন্থের ওয়েস্টার্ন টপ এবং কুর্তি থাকবে ট্রেন্ডে। পোশাকের প্যাটার্নেও থাকবে ভিন্নতা। যেমন : ফিস কাট, রাউন্ড কাট, ডাবল লেয়ার ও স্ল্যাশড প্যানেলসহ স্লিডেড কিছু প্যাটার্ন। আর আধুনিক তরুণীরা ফ্যাশন সচেতন বলেই সময়ের সঙ্গে পথচলায় সিঙ্গেল কুর্তির বেশ নামডাক। কুর্তির বড় সুবিধা হলো এর সঙ্গে ম্যাচিং কামিজ না থাকলেও জিন্স, লেগিন্স বেশ মানিয়ে যায়। তবে কিছুটা পরিবর্তন আছেই। কুর্তি বা লম্বা কামিজের বটমে ইউ-ভি, উল্টা-ভি, বোট কাটিং, চওড়া বা স্ট্রেইট প্যাটার্ন, বাটারফ্লাই ইত্যাদি ডিজাইনে সাজানো হয়েছে।

স্লিভেও থাকবে বৈচিত্র্য। প্রিন্সেস স্লিভ, ফ্লেয়ার্ড স্লিভ, সার্কুলার স্লিভ, স্লিট স্লিভ, কেপ স্লিভ, ফ্লস স্লিভ প্রাধান্য পাবে ঈদ ফ্যাশনে। তবে এক্ষেত্রে পোশাকের প্যাটার্ন হবে সাদামাটা। এ বছরের শুরু থেকেই টার্সেল এবং ফ্রিলের ব্যাপক ব্যবহার দৃশ্যমান এবং এবার ঈদেও খুব একটা ব্যতিক্রম হবে না। ফ্যাশন টপ, ড্রেস, ক্রপ টপ আর স্কার্টের ব্যবহার বাড়তি আনন্দ যোগ করবে পোশাকের উপস্থাপনায়। থিমনির্ভর কাজ করে এমন যুগোপযোগী ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের থিম অনুযায়ী মোটিফ ব্যবহার করে কাপড়ে প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, কারচুপি আর হাতের কাজ দিয়ে তৈরি করছে আধুনিক দৃষ্টিনন্দন দেশীয় পোশাকের কালেকশন। প্রিন্টের মোটিফে গত বছরের মতোই এবারো ফ্লোরাল প্রিন্ট ও ভিনটেজ আউটলাইন থিমে চলবে। এ ছাড়া কাপড়েও থাকছে ভিন্নতা। গর্জিয়াস সিল্ক, হাফ সিল্ক, শিফন, জর্জেট আর ডেকোরেটিভ কাপড়ের পাশাপাশি গরমের কথা চিন্তা করে ডিজাইনাররা ব্যবহার করছেন মডাল, ভিসকস, চিজ কটন ও ভয়েল। ঈদের তিন দিনের বিশেষত্ব অনুযায়ী কটনের তৈরি কিছু রেগুলার ওয়্যার রাখা যেতে পারে ঈদের ওয়্যারড্রবে। পছন্দনীয় পোশাকের সঙ্গে মানানসই পালাজো, প্যান্ট, ট্রাউজার থাকবে বিভিন্ন কুর্তির সঙ্গে পছন্দমতো স্টাইল করে নেওয়ার জন্য। অনেকে আবার একটু গর্জিয়াস লুকের জন্য সারারাও বেছে নিতে পারেন। তবে, কিছু পোশাক থাকে চিরকাল ক্ল্যাসিক।

 

তবে ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরার আগে মনে রাখতে হবে এটা আমাদের রুচি, সংস্কৃতি ও সমাজে গ্রহণযোগ্য কিনা এবং মানাচ্ছে কিনা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, লং স্কার্ট ১২০০-৫০০০ টাকা। কেইপ, টপস ও টিউনিক ৬০০-৫০০০ টাকা। গাউন ২০০০-১০,০০০ টাকা, টি-শার্ট ৩০০-১২০০ টাকা। ওয়েস্টার্ন পোশাকের তালিকায় সেইলর, ইনফিনিটি, গ্রামীণ উইনিক্লো, মার্জিন, রঙ বাংলাদেশের ওয়েস্ট রঙ, ইয়াংকে, ইয়োলো, লা-রিভসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস এখন জনপ্রিয়।


আপনার মন্তব্য