শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ মার্চ, ২০২০ ২১:২৬

বুদ্ধি বাড়ানোর কৌশল

সাইফ ইমন

বুদ্ধি বাড়ানোর কৌশল
♦ ছবি : মনজু আলম

বুদ্ধির অন্য নাম ইন্টেলিজেন্স। ইন্টেলিজেন্স মাপার অনুপাতই হলো ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট, যাকে আমরা সংক্ষেপে বলি ‘আইকিউ’। আর সেই আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা যে যার মতো কাজে লাগিয়ে সেরা হয়ে উঠতে চান। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন মগজাস্ত্রে বা বুদ্ধির জোর বাড়ানো বা শান দিয়ে নেওয়া। তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজন লাইফস্টাইলের সামান্য পরিবর্তন। আর সেগুলোকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাজিক দেখাতে পারবেন আপনিও। রইল পরামর্শ...

 

একই কাজ অন্যভাবে

আমরা অনেক কাজ রিফ্লেক্সে করে ফেলি, কিন্তু সেগুলো করতে আমাদের মেধা (ব্রেন) খরচ করতে হয় না। কিন্তু ইন্টেলিজেন্স হতে হলে আপনাকে একই কাজ অন্যভাবে করতে হবে। আপনার ব্রেনকে অচেনা জিনিসের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস করুন। ব্রেন তখন নতুন নতুন অভিজ্ঞতা মোকাবিলা করতে শিখবে। এতে ব্রেনের শক্তি বাড়বে।

 

মেডিটেশন

মেডিটেশন শুধু স্ট্রেস কমানোর অস্ত্র নয়। মেডিটেশন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। পাশাপাশি ধৈর্য, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি সবই বাড়ে। খুব বেশি কিছু নয়। শুধু নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মন নিবদ্ধ করতে হবে। অন্য কোথাও মনোযোগ না দিয়ে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস গুনতে হবে। আর কিছু নয়। দিনে মাত্র আধা ঘণ্টা সময় দিলেই যথেষ্ট। টানা ১০ মিনিট করে তিন বার বা ১৫ মিনিট করে দুবার করতে পারেন। ঘুম থেকে ওঠার পর হালকা এক্সারসাইজ এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে মেডিটেশন করা ভালো।

 

হালকা ব্যায়াম

এ জন্য জিমে গিয়ে লোহা তুলতে হবে না। মাসেল বানানোর উদ্দেশ্যে নয়। প্রতিদিন ৪০-৪৫ মিনিট একটু হালকা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করলেই হলো। সুস্থ শরীরে বাস করে সুস্থ মন, মস্তিষ্কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

 

খাওয়া-দাওয়া

খাবারে যেন প্রচুর ফলমূল থাকে। খুব বেশি তেল-ঝাল-মসলা না খেয়ে সহজপাচ্য খাবার খাওয়া অভ্যাস করতে পারলে ভালো। বেশি বেশি ভিটামিন বি-এর খাবার গ্রহণ করতে হবে। বিকালে বা সন্ধ্যার পর হালকা খাবার খাওয়াই স্বাস্থ্যকর।

 

না খাওয়াই ভালো

চিপস, কুকিজ এবং জাঙ্ক ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষ করে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে এসব খাবার ঠিকমতো তাদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ হতে দেয় না।

 

সময়মতো পর্যাপ্ত ঘুম

সব মানুষ একরকম নয়। কারও মস্তিষ্ক সকাল ৯টায় সবচেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল থাকে, কারও আবার রাত ৯টায়। কেউ আবার রাত জেগে কফি খেয়ে পড়াশোনার জোশ বাড়ায়। তাই নিজের একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নেওয়া উচিত বিশ্রামের জন্য। কারণ, মস্তিষ্ক যখন বিশ্রাম চাইবে, তখন ঘুমিয়ে নেওয়া উচিত। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা।

 

বেশি বেশি পড়াশোনা

পড়ার অভ্যাস বাড়ান। যত বেশি পড়বেন তত বেশি বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে। খুব ভালো হয় যদি ফিজিক্স বা অঙ্কের দিকে একটু জোর দেন। বিজ্ঞান বিষয়ক বই বেশি পড়তে পারেন। এতে মাথার যুক্তিতর্ক এবং রিজনিং আয়ত্ত করার ক্ষমতা বাড়ে।

 

নতুন জিনিস শেখা

এটা দারুণ অভ্যাস। নতুন কিছু যেমন-  নতুন রেসিপি তৈরি, ড্রাইভিং, সুইমিং ইত্যাদি শিখতে পারেন। নতুন কিছু শেখা এবং তার অভ্যাস করতে পারলে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে। সবচেয়ে ভালো হলো নতুন কোনো ভাষা শেখা এবং তা নিয়ে চর্চা করা।

 

ধাঁধা সমাধান

ধাঁধা চর্চা করতে হবে। লজিক্যাল রিজনিং বা এই জাতীয় প্রশ্নোত্তরগুলো বারবার অভ্যাস করতে হবে। নতুন কাউকে পেলেই তাকে ধাঁধা জিজ্ঞেস করে ধাঁধায় ফেলে দিতে পারেন। অনেকে এই জাতীয় সমস্যা সমাধানগুলোর জন্য সপ্তাহে দুই দিন অন্তত তিন ঘণ্টা বরাদ্দ রাখেন। ভুল প্র্যাকটিস। তার চেয়ে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে ধাঁধার সমাধান বেশি কার্যকরী।

 

জ্ঞান বিতরণ করুন

শুনে ভাবছেন, এ আবার কী? যা পড়ছেন, তা যদি কাউকে ফের পড়াতে বা বোঝাতে পারেন, তবে সেই শেখাটা ভালো করে হবে। ট্রাই করে দেখতে পারেন।

 

কল্পনাশক্তি কাজে লাগান

টিভি, সিনেমা দেখা বা বই পড়া হয়ে গেলে, যা দেখলেন বা যা পড়লেন তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করুন। প্রয়োজনে যা-যা মনে হলো তা লিখে রাখতে পারেন। সেসব জিনিসই চিন্তার খোরাক জোগায়।

 

যা ভাবছেন লিখে ফেলুন

যা যা ভাবছেন, তা মাথা থেকে উড়ে যেতে না দিয়ে খাতায় লিখে ফেলুন। প্রতিদিনই চিন্তা-ভাবনাগুলো লিখে রাখার জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ করুন।

 

অন্যের চোখে দেখুন

যে কোনো ঘটনা অন্য কারও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভাবার অভ্যাস করুন। প্রতিটি ঘটনার আলাদা আলাদা বিশ্লেষণ পাওয়া যাবে। আর এতে ব্রেনের অ্যানালাইসিস বা চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা বাড়বে।

 

তিনটি নির্দিষ্ট অভ্যাস

বাজনার মধ্যে কি বোর্ড, খেলার মধ্যে দাবা এবং পাজলের মধ্যে সুদোকু। এই তিনটি জিনিসের অভ্যাস বা প্রশিক্ষণ নিতে পারলে, মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা যে বাড়বেই এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।


আপনার মন্তব্য