শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০৯

অক্সিজেনের চাহিদা যখন বাড়ে কমে

অক্সিজেনের চাহিদা যখন বাড়ে কমে

যারা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের রক্ত সরবরাহের অপ্রতুলতা থাকায় পরিশ্রমকালীন সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে হৃৎপিণ্ডের ব্যথা বা বুক ব্যথা যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এনজিনা বলা হয়ে থাকে তা পরিলক্ষিত হয়। আবার বিশ্রামকালীন বা পরিশ্রম করা থেকে বিরত হলে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরবরাহের ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। ফলে উপসর্গগুলো দ্রুত কমে যেতে থাকে। এত গেল হৃদরোগের স্বাভাবিক বর্ণনা যা শতকরা ৮০ জন হৃদরোগীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে শতকরা ২০ জন রোগীর ক্ষেত্রে হৃদরোগের স্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত না হয়ে অন্য ধরনের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এসব রোগী প্রাথমিক অবস্থায় নিজেও বুঝতে পারেন না যে, তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সাধারণ চিকিৎসকরাও প্রায় ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয়ে জটিলতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। অনেক ডায়াবেটিস রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, অনেক বয়োবৃদ্ধ রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে অস্বাভাবিক উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। যেমন- পরিশ্রম করতে গেলে তারা খুব তাড়াতাড়ি হাঁপিয়ে উঠেন, তাদের হাঁটা চলাফেরার যোগ্যতা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়, অনেকের চোয়ালে ব্যথা অনুভব করেন, অনেকে মনে করেন দাঁতে ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন। কারও কারও ঘাড় বা পিঠে ব্যথা হয়ে থাকে, কেউ কেউ খাবার পরে শ্বাসকষ্টে বা অস্থিরতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কেউ কেউ রাতে শুতে গেলে শ্বাসকষ্ট, শুকনো কাশি অথবা অস্থিরতা বোধ করে থাকেন। কারও কারও নাক ডাকার প্রবণতা থাকলে তার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। কারও শ্বাসকষ্টের জন্য রাতে ঘুম ভেঙে যায়। আবার অনেকের শারীরিক ওজন তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি ঘটে, খুব বেশি ক্লান্তি অনুভূত হওয়ায় কর্মদক্ষতা দারুণভাবে কমে যায়। খাবার গ্রহণ করলে তারা আরও ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং অস্থিরতা বোধ করেন। এসব অস্বাভাবিক উপসর্গ ডায়াবেটিস ও বয়োবৃদ্ধি ব্যতীত অন্য ব্যক্তিদের বেলায় পরিলক্ষিত হতে পারে। তাই এসব উপসর্গ পরিলক্ষিত হলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ উত্তম।

ডা. এম শমশের আলী (কার্ডিওলজিস্ট), সিনিয়র কনসালটেন্ট (প্রা.), ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।


আপনার মন্তব্য