শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১২:০৭
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১২:০৯

খবর আল-জাজিরা'র

নাম বদল নিয়ে বিক্ষোভের জেরে অশান্ত এথেন্স

অনলাইন ডেস্ক

নাম বদল নিয়ে বিক্ষোভের জেরে অশান্ত এথেন্স
সংগৃহীত ছবি

কথায় বলে নামে কী এসে যায়। আর সেই নামকরণ ঘিরেই বিবাদে জড়ালো ইউরোপের দুই রাষ্ট্র গ্রীস ও মেসিডোনিয়া। চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপের রাষ্ট্র মেসিডোনিয়ার নাম হবে প্রজাতান্ত্রিক উত্তর মেসিডেনিয়া। আর বিরোধের সূত্রপাত এখানেই। নিজ দেশের নতুন নাম মানতে নারাজ মেসিডোনিয়ার অধিকাংশ মানুষ৷। প্রতিবাদে প্রতিবেশী দেশ এথেন্সের রাস্তায় নেমে জোরদার আন্দোলনে মেসিডেনিয়ার বাসিন্দারা।

পূর্বতন ইয়োগোশ্লাভিয়া ভেঙ্গে যখন মেসিডোনিয়া আলাদা রাষ্ট্র হয়, তখন থেকেই নাম নিয়ে তাদের সঙ্গে গ্রীসের তীব্র বিরোধ চলছে। গ্রীসের আপত্তরির কারণ হল, সে দেশের উত্তর অংশে একটি রাজ্যের নামও মেসিডোনিয়া। একই নামের কারণে সেখানে সীমানা নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা গ্রীসের। 

জানা যায়, এই আপত্তরির কারণেই মেসিডোনিয়া এতদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নে বা ন্যাটো জোটের সদস্য হয়ে উঠতে পারেনি। বিবাদ চরমে পৌঁছায় মেসিডোনিয়ানরা যখন তাদের রাজধানী স্কোপিয়ের বিমানবন্দরটি প্রাচীন গ্রীক বীর আলেক্সান্ডারের নামে রাখে, সেটি দুদেশের মধ্যে আরও তিক্ততা তৈরি করে।

বিবাদ মেটাতে গ্রীস ও মেসিডোনিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি হয়৷ যাতে স্থির হয় মেসিডোনিয়ার নতুন নাম হবে ‘রিপাবলিক অব নর্থ মেসিডোনিয়া’। নাম পরিবর্তনের ফলে ‘নর্থ মেসিডোনিয়া’ ইউরোপীয় ইউনিয়নে এবং ন্যাটো জোটের সদস্য হতে পারবে। চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, উত্তর মেসিডোনিয়ার সঙ্গে প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার কোন সস্পর্ক নেই এবং তাদের ভাষা আসলে স্লাভ ভাষাগোষ্ঠীর অংশ, এর সঙ্গে গ্রীক ঐতিহ্যের কোন সম্পর্ক নেই। 

আর এই চুক্তি মানতে নারাজ মেসিডোনিয়ার জনগণ। তাদের দাবি গণভোটের মাধ্যামে দেখা হোক মেসাডোনিয়ার মানুষ এটা চায় কিনা৷। দাবিপূরণ না হওয়ায় এদিন গ্রীক পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন মেসিডোনিয়ানরা। গাড়ি আটকে, আগুন জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া ইঁটের আঘাতে আহত হন পাঁচ পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় দু’হাজার নিরাপত্তারক্ষী। বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এমনকি, সিল করা হয়েছে গ্রীস মেসিডোনিয়া সীমান্ত।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য

close