শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ জুলাই, ২০২০ ১১:২২

মেয়রের 'নাটকীয়' মৃত্যু, বিভক্ত দক্ষিণ কোরিয়া!

অনলাইন ডেস্ক

মেয়রের 'নাটকীয়' মৃত্যু, বিভক্ত দক্ষিণ কোরিয়া!
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের মেয়র পার্ক উন-সুনের 'নাটকীয়' মৃত্যুতে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দেশটি। গত সপ্তাহে নিখোঁজ হওয়ার সাত ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পার্ক উন-সুন টানা নয় বছর ধরে সিউলের মেয়র, নিজ কর্মগুণে হয়ে উঠেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর কর্মকর্তা। দেশটির আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীও ধরা হচ্ছিল তাকে। 

মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন লড়েছেন ৬৪ বছর বয়সী জনপ্রিয় এ নেতা। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম যৌন হয়রানি মামলার আইনজীবী ছিলেন তিনি। কিন্তু, মৃত্যুর পর আশ্চর্যজনকভাবে প্রশ্ন উঠেছে তারই চরিত্র নিয়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পার্ক উন-সুনের বিরুদ্ধেই যৌন হয়রানির অভিযোগ ছিল। পুলিশও নিশ্চিত করেছে, এ নিয়ে একটি মামলা হয়েছিল সিউল মেয়রের বিরুদ্ধে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের কাছে উন-সুন নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন তার মেয়ে। কীভাবে মারা গেছেন তা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ, তবে হত্যাকাণ্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। শুক্রবার পার্কের লেখা একটি ছোট চিঠি দেখানো হয় স্থানীয় গণমাধ্যমে। এতে লেখা ছিল, ‘আমি সবার জন্য দুঃখিত। জীবনভর যারা আমার পাশে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ। শুধু কষ্টই দেয়ার জন্য আমি আমার পরিবারের জন্য দুঃখিত।’

পার্ক উন-সুনের অকাল মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েছেন সমর্থকেরা। স্থানীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে তার মরদের রাখা হাসপাতালের বাইরে বহু মানুষকে বিলাপ করতে দেখা গেছে। তবে কারও কারও মনে ক্ষোভও আছে। অনেকের অভিযোগ, উন-সুন মারা যাওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আর আমলে নেবে না দেশটির আদালত। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুসারে কোনও সন্দেহভাজন মারা গেলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার আর কোনও সুযোগ থাকে না, এ কারণে বন্ধ করে দেয়া হয় সব তদন্ত।

সিউলের মেয়র মারা যাওয়ার পর মাত্র একদিনের মধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ একটি আনুষ্ঠানিক পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন, যেন তার শেষকৃত্য আটকে দেয়া হয়। ১৩ জুলাই উন-সুনের শেষকৃত্য হওয়ার কথা।

তবে মেয়রের পরিবার জনগণকে সংযম দেখানোর অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি, এভাবে মানহানি চলতে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ বহু পুরোনো। অনেকেই এটিকে কোরীয়দের নারীবিদ্বেষী মনোভাবের পরিচয় বলে মনে করেন।

সূত্র: সিএনএন


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর