শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:০৪
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩৮

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

তাইওয়ানে চীন অভিযান চালালে কী করবে যুক্তরাষ্ট্র?

অনলাইন ডেস্ক

তাইওয়ানে চীন অভিযান চালালে কী করবে যুক্তরাষ্ট্র?

অনেক চীনা ফোরামে এখন এই প্রশ্ন নিয়ে তীব্র আলোচনা আর তর্ক-বিতর্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনিই বিজয়ী হোন না কেন, তার সামনে সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক মাথাব্যাথা হয়ে দাঁড়াতে পারে এই তাইওয়ান ইস্যু। এ নিয়ে বিবিসির রুপার্ট্ উইংফিল্ড হেইসের বিশ্লেষণ:

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত ১৩ই অক্টোবর দক্ষিণ গুয়াংডং প্রদেশে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) একটি ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি তাঁর বক্তৃতায় মেরিন সেনাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন। এরপর অনেক সংবাদপত্রের শিরোনামে এরকম একটা ইঙ্গিত ছিল যে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের অভিযান অত্যাসন্ন।

কিন্তু এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এরকম কিছু সহসা ঘটছে না। তবে চীন বিশেষজ্ঞরা কেন তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এত জরুরি আলোচনায় মেতেছেন তার কিছু কারণ আছে। তাইওয়ান নিয়ে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখোমুখি অবস্থান অনেক দীর্ঘদিনের। চীন দাবি করে, ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তবে ওয়াশিংটন মনে করে, চীন আর তাইওয়ানের যে দীর্ঘ বিচ্ছেদ, সেটির মীমাংসা হতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে। তাইওয়ান নিয়ে চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের এই অচলাবস্থা চলছে দশকের পর দশক ধরে। কিন্তু মনে হচ্ছে এই অচলাবস্থা যেন এখন ভঙ্গ হতে চলেছে। তাইওয়ান প্রশ্নে এতদিনের এই স্থিতাবস্থা কেন আর টিকবে না বলে মনে হচ্ছে, তার কিছু কারণ আছে।

এর প্রথম কারণটাই হচ্ছেন শি জিনপিং। "শি জিনপিং তাইওয়ানকে ফেরত চান," বলছেন লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজের চায়না ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্টিভ সাং। "আর শি জিনপিং তাইওয়ানকে ফিরে পাওয়ার এই কাজটা শেষ করতে চান, চীনের পরবর্তী নেতা যিনিই হবেন, তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে।"

ওরিয়ানা স্কাইলার মাস্ট্রো হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিষয়ক এক সামরিক বিশ্লেষক। তিনি বলছেন, শি জিনপিং যখন ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালের সময়সীমা তুলে দিয়ে কার্যত নিজেকে আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট বানালেন, তখনই তার মনে এরকম একটা আশংকা তৈরি হয়।

"হঠাৎ করেই তাইওয়ান সম্পর্কে তিনি যেটাই বলছিলেন, তার একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ দাঁড়াচ্ছিল। তিনি কখন এই সমস্যার সমাধান চান সেটা কিন্তু এখন নেতা হিসেবে তার বৈধতা এবং তার মেয়াদের বৈধতার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।"

অধ্যাপক সাং এর মতে, শি জিনপিং নিজেকে এক বিরাট ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব বলে মনে করেন। তিনি মনে করেন, মাও জেদং থেকে শুরু করে চীনের আগের অনেক বড় বড় নেতা যে কাজ শেষ করতে পারেননি, সেটি শেষ করার দায়িত্ব তার কাঁধে বর্তেছে। তাকেই এটা করতে হবে।

তিনি বলেন, "দেং শিয়াওপিং তাইওয়ানকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। এমনকি চেয়ারম্যান মাও পর্যন্ত পারেননি। এখন যদি শিজিনপিং তাইওয়ানকে চীনের কাছে নিয়ে আসতে পারেন, তিনি কেবল দেং শিয়াওপিং এর চাইতে বড় নেতা হবেন না, তিনি চেয়ারম্যান মাও এর চেয়েও বড় নেতায় পরিণত হবেন।"

শি জিনপিং এর আগে প্রকাশ্যে বলেছেন, "তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে এক করার বিষয়টি চীনের মানুষকে দারুণভাবে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এক অবশ্যম্ভাবী প্রয়োজনীয় কাজ।" প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনা জনগণের যে বিরাট পুনরুজ্জীবনের কথা বলছেন, তার সেই পরিকল্পনার সময়সীমা ২০৪৯ সাল। যেবছর আসলে চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবের শতবর্ষপূর্তি। কিন্তু সেটার তো এখনো ৩০ বছর দেরি।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে অত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে চান না, তার কারণ আছে। আরও বিস্তারিত দেখুন এই লিংকে...

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর