শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪৪

পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ভারত-পাকিস্তান?

পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ভারত-পাকিস্তান?

ভারত পরমাণু যুদ্ধ বাধিয়ে বসতে পারে বলে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিষয়টিকে আমলে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ভারতের পরমাণু অস্ত্রভা-ার অন্য দেশগুলোর জন্য আদৌ নিরাপদ কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইমরান খান বিষয়টিকে নজরে রাখার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান। ভারত এখনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ‘প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না’ বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও আগামী দিনে এ নীতি বদলাতে পারে- এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী দেশটির অস্ত্রভা-ার নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক হতে বললেন।

এর আগে কাশ্মীর সংকট থেকে  দিল্লি-ইসলামাবাদ পারমাণবিক   যুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনা   মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, কাশ্মীর থেকে দৃষ্টি সরাতে ভারত পাকিস্তানে হামলা করতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির সঙ্গে যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ গফুর আরও বলেন, ভারতের যে কোনো হুমকি মোকাবিলা করতে পাকিস্তান ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’।

মেজর জেনারেল আসিফ বলেছেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, ভারত কাশ্মীর থেকে দৃষ্টি সরাতে পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারে। আর আমরাও যে কোনো হামলা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশ্বের প্রত্যেকটি দূতাবাসে নিয়োগ দেওয়া হবে যেন তারা বৈশ্বিকভাবে এই বিষয়টিকে তুলে ধরতে পারেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী ইমরান পরমাণু যুদ্ধের বিষয়টি সামনে আনলেন।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত-পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মীর ইস্যুতে। গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। দুই দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মীর সীমান্তে চলছে টানটান উত্তেজনা। একই সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে কালো দিবস হিসেবে পালন করেছে পাকিস্তান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশি বলেন, দেশটির শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাশ্মীর নিয়ে বিশেষ একটি দল গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশ্বের প্রত্যেকটি দূতাবাসে নিয়োগ দেওয়া হবে যেন তারা বৈশ্বিকভাবে এই বিষয়টিকে তুলে ধরতে পারেন।’


আপনার মন্তব্য