বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের তাগিদ

জি-২০ সম্মেলন শুরু

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের তাগিদ

বালিতে জি-২০ সম্মেলনে রাষ্ট্রপ্রধানদের সহধর্মিণীরাও অংশ নিয়েছেন -এএফপি

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর সম্মেলন জি-২০ শুরু হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গভীর বিভক্তি সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোটকে সহায়তা করার পদক্ষেপ নিতে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার জানানো আহ্বানের মধ্য দিয়ে গতকাল এ সম্মেলন শুরু হয়। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ছাড়া প্রায় সব শীর্ষনেতাই বালিতে পৌঁছেছেন। সেখানে মোদি প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামার ব্যাপারে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি বারবার বলছি, আমাদের একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের যুদ্ধবিরতি ও ইউক্রেনে গণতন্ত্রের পথে ফিরতে হবে। গত শতকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। সেসময়ই বিশ্ব নেতারা শান্তির জন্য চেষ্টা করেছিলেন। এখন আমাদের পালা।’

বক্তব্যে তিনি কূটনীতির মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। মোদি আরও বলেছেন, শক্তি সরবরাহের ওপর যাতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ ও প্রচার না করা হয় তারও প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন, কভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেনের উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সাধারণ সমস্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান অস্থির সময়ের কারণে বেশ কিছু সরবরাহ লাইন বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাতে সমস্যা আরও বাড়ছে।

তিনি বলেছেন, ‘এখন শান্তির জন্য সমবেত প্রয়াস জরুরি। আমি আশা করি, পরের বছর জি-২০ সম্মেলন যখন বুদ্ধ ও গান্ধীর পবিত্র ভূমিতে হবে, তখন আমরা সমবেতভাবে বিশ্বকে শান্তির বাণী শোনাতে পারব।’ এবার জি-২০-এর চেয়ারম্যানের পদ পাবে ভারত। পরের বছর জি-২০ সম্মেলন ভারতে হবে। মোদি সেই কথাই বলেছেন।

এ জোটের সদস্য দেশগুলো বিশ্বের মোট দেশজ পণ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ এসব দেশে বাস করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এ সম্মেলনের প্রাক্কালে একটি ইতিবাচক ঘটনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের তিন ঘণ্টাব্যাপী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। সোমবারের এ বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে পার্থক্য সত্ত্বেও আরও ঘন ঘন যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি দেন। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এই প্রথম এ দুই নেতা মুখোমুখি বৈঠকে মিলিত হন। সম্প্রতি এ দুই সুপার পাওয়ারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি হলেও এ বৈঠকে তার উন্নতি হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি এ সম্মেলনের ওপর ঘনছায়া ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর নেতাদের অন্তত অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।

সর্বশেষ খবর