যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম বদলানোর চিন্তা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস আবারও পুরোনো নাম ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বা ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের বর্তমান নাম ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স পরিবর্তন করে আবার ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার নামকরণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সরকারের সবচেয়ে বড় এই দপ্তরের নাম পরিবর্তন করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিকল্প উপায়ে এটি কার্যকর করার পথও খুঁজছে হোয়াইট হাউস। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্রেগ স্টুব এই পরিবর্তনের পক্ষে বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিলের একটি সংশোধনী দাখিল করেছেন; যা প্রমাণ করে কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের মধ্যেও এই ধারণার প্রতি সমর্থন রয়েছে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে তারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি জোর দিয়েছে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, আমাদের সামরিক বাহিনী শুধু প্রতিরক্ষায় নয়, আক্রমণাত্মক সক্ষমতার দিকেও মনোযোগী হওয়া উচিত। এ কারণেই তিনি পেন্টাগনে ডিইআই ও ‘ওয়োক’ মতাদর্শের পরিবর্তে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সৈন্যদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অপেক্ষা করুন, আরও আসছে!’ মূলত ডিইআই বলতে বোঝানো হয়েছে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির উদ্যোগকে।
এর আগে গত সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘ওয়ার ডিপার্টমেন্ট’ রাখা হলে এটি আরও শক্তিশালী শোনায়। তার ভাষায়, ‘আগে একে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার বলা হতো এবং তা আরও শক্তিশালী শোনাতো। আমরা প্রতিরক্ষা চাই, তবে আক্রমণও চাই। যখন এটি ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার ছিল, আমরা সব যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। আমার মনে হয়, আমাদের আবার সেই অবস্থায় ফিরে যেতে হবে।’